যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার দুয়ারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, পরমাণু সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করবে তেহরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে দুই পক্ষ। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, অচিরেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশা করছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে দুই পক্ষ। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, অচিরেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশা করছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রশাসনের দুটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রথমবারের মতো দুই দেশ সম্ভাব্য সমঝোতার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি, তবুও আলোচনা দ্রুত এগোচ্ছে।
খসড়া সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান তাদের পারমাণবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত করবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করতে রাজি হতে পারে। একই সঙ্গে হরমোজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের ওপর দুই পক্ষের আরোপিত বিধিনিষেধও তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সমঝোতা স্মারক মূলত একটি কাঠামো তৈরি করবে, যার ভিত্তিতে ৩০ দিনের বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে। ইসলামাবাদ অথবা জেনেভায় সেই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান প্রতিশ্রুতি দিতে পারে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পরিচালনা করবে না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের আকস্মিক পরিদর্শনের সুযোগও দিতে হবে তেহরানকে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত ইস্যু হচ্ছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের সময়সীমা। ইরান পাঁচ বছরের প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের দাবি তুলেছিল। আলোচনায় থাকা সূত্রগুলোর মতে, শেষ পর্যন্ত এই সময়সীমা ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে নির্ধারিত হতে পারে।
আরেকটি বড় অগ্রগতি হিসেবে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নিতে রাজি হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। অতীতে তেহরান এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১৪ দফার এই খসড়া নিয়ে আলোচনা করছেন।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘এটি অত্যন্ত জটিল ও প্রযুক্তিগত বিষয়। তবে একটি কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আলোচনার বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান নিতে হবে।’
তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরেও সংশয় রয়ে গেছে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি চূড়ান্ত সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক উত্তেজনা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস