যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক মহামন্দার শঙ্কা: আইএমএফ
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি মহামন্দার মুখে পড়তে পারে—এমন সতর্কতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটি বলছে, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে।
1.
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি মহামন্দার মুখে পড়তে পারে—এমন সতর্কতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটি বলছে, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে।
বিবিসি ও সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইএমএফ তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ১৯৮০ সালের পর চতুর্থবারের মতো বৈশ্বিক মহামন্দা দেখা দিতে পারে। সর্বশেষ এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল করোনা মহামারির সময়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান। এর মধ্যে বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে। শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
আইএমএফ জানায়, যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম এক পর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে, ভবিষ্যতে তা ২০২৭ সালে ১২৫ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদহার বাড়াতে হতে পারে।
আইএমএফের মুখ্য অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ার গৌরিনশাস বলেন, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নামলে তার প্রভাব বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে পড়বে। বেকারত্ব বাড়বে, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে অনেক দেশে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তবে যুদ্ধ দ্রুত থামানো গেলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা দেখিয়েছে আইএমএফ। সে ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতি চাপে পড়বে। ইরানের অর্থনীতি এ বছর ৬ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির অর্থনীতিও বড় ধাক্কা খেতে পারে।
অন্যদিকে, তেলের দাম বৃদ্ধিতে তুলনামূলকভাবে লাভবান হচ্ছে রাশিয়া। দেশটির এ বছর ১ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।
সব মিলিয়ে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আবারও বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, সিএনএন