ইরান যুদ্ধের ৬০ দিনের আইনি সময়সীমা শেষ: কী সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প-কংগ্রেস
ইরান যুদ্ধ ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ ৬০ দিনের আইনি সময়সীমা শুক্রবার শেষ হয়েছে। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন কংগ্রেস—উভয়ের সামনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের প্রশ্ন উঠে এসেছে।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ ৬০ দিনের আইনি সময়সীমা শুক্রবার শেষ হয়েছে। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন কংগ্রেস—উভয়ের সামনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের প্রশ্ন উঠে এসেছে।
১৯৭৩ সালের যুদ্ধ পরিচালনা ক্ষমতা আইন (War Powers Resolution) অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘ সময় সামরিক অভিযান চালাতে পারেন না প্রেসিডেন্ট। আইনে বলা হয়েছে, কোনো সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে অভিযান বন্ধ করতে হবে।
ট্রাম্পের অবস্থান
শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে ফ্লোরিডায় যাওয়ার পথে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন নেই। অতীতের প্রেসিডেন্টদের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, আইনটি কার্যত অনুসরণ করা হয়নি এবং এটি অসাংবিধানিক। হোয়াইট হাউস জানায়, যুদ্ধ শুরুর আগ থেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে এবং ৩০টির বেশি দ্বিদলীয় ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে।
৬০ দিনের হিসাব
ইরান যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। ২ মার্চ কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার মাধ্যমে ৬০ দিনের সময়সীমা শুরু হয়, যা শুক্রবার শেষ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে, তবে তা নতুন করে আক্রমণ চালানোর অনুমতি দেয় না।
কংগ্রেসে বিভক্তি
কংগ্রেসে এ নিয়ে বিভক্তি স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটরা একাধিক প্রস্তাব এনে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করতে চাইলেও রিপাবলিকানরা সেগুলো আটকে দিয়েছে। তবে কিছু রিপাবলিকান নেতা ডেডলাইনের পর অবস্থান বদলাতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সিনেটর জন কার্টিস বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান তিনি সমর্থন করবেন না। সিনেটর জশ হাওলি বলেন, আইনটি মানা উচিত এবং যুদ্ধের একটি “প্রস্থান কৌশল” থাকা দরকার।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চলায় ৬০ দিনের সময়সীমা ‘থেমে গেছে’। একই সুরে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন “যুদ্ধে নেই”, বরং শান্তি আলোচনার চেষ্টা চলছে—তাই কংগ্রেসের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পরও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসন চাইলে যুদ্ধবিরতিকে যুক্তি হিসেবে দেখিয়ে ৬০ দিনের সময়সীমা পুনরায় গণনা শুরু করার চেষ্টা করতে পারে। তবে আইনের ভাষা এ ধরনের ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে না।
আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
গত পাঁচ দশকে যুদ্ধ পরিচালনা ক্ষমতা আইন খুব একটা কার্যকর হয়নি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। অতীতেও কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট সামরিক অভিযান চালিয়ে গেছেন।
তবে আইনি বাধা না হলেও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে এই আইন ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হচ্ছে—বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন জনমত জরিপে ইরান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন কমে আসছে।
তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ