ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: তদন্তে উঠে এলো ঘটনাপ্রবাহের ভয়াবহ টাইমলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর ও বিস্তারিত টাইমলাইন প্রকাশ করেছে তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহ এখন হত্যা মামলায় বিচারাধীন।

Apr 29, 2026 - 01:46
ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: তদন্তে উঠে এলো ঘটনাপ্রবাহের ভয়াবহ টাইমলাইন
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল লিমন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর বিস্তারিত টাইমলাইন প্রকাশ করেছে তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহ এখন হত্যা মামলায় বিচারাধীন।

জামিল লিমন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি-দুজনেরই বয়স ২৭। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে টাম্পা থেকে নিখোঁজ হন তারা। এক সপ্তাহ পর লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও এখনো তার মরদেহ উদ্ধার হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত

তদন্ত নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত হিশাম ১১ এপ্রিল অনলাইনে ডাকটেপ, ট্র্যাশ ব্যাগ, লাইটার ফুয়েলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনেনযা পরবর্তীতে অপরাধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১৩ এপ্রিল তার একটি চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনেও সন্দেহজনক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেখানে তিনি জানতে চান, “মানুষকে কালো ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে কী হয়?”—এবং পরেকীভাবে ধরা পড়বেসে প্রশ্নও করেন বলে অভিযোগ।

নিখোঁজের দিন: ১৬ এপ্রিল

এই দিনই শেষবারের মতো লিমন ব্রিস্টির সঙ্গে যোগাযোগ হয়। দুপুরে ক্যাম্পাসে ব্রিস্টিকে দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর আর তার কোনো খোঁজ মেলে না।

অন্যদিকে, লিমনের ফোন লোকেশন তাকে বাসা থেকে ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় নিয়ে যায়। একই সময়ে অভিযুক্তের গাড়ির উপস্থিতিও ওই এলাকায় শনাক্ত হয়। রাতজুড়ে তাদের ডিভাইস লোকেশনে মিল পাওয়া যায়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তের ফোন থেকে ডোরড্যাশে ট্র্যাশ ব্যাগ, পরিষ্কারক সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য অর্ডার করা হয়। একই রাতে তাকে অ্যাপার্টমেন্টের ডাম্পস্টারে বাক্স সরাতে দেখা যায়।

১৭ এপ্রিল: নিখোঁজের রিপোর্ট

পরদিন দুই শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়। এদিন ভোরে অভিযুক্তকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় যেতে দেখা যায়। একই দিনে তার ফোনেস্টেট পার্কে গাড়ি চেক করা হয় কি না”—এমন সার্চও পাওয়া যায়।

তদন্তে নতুন তথ্য

২৩ এপ্রিল তদন্তকারীরা একটি ডাম্পস্টার থেকে রক্তমাখা বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেনযার মধ্যে ছিল লিমনের মানিব্যাগ, ব্রিস্টির ফোন কেস, চশমা কাপড়।

অভিযুক্তের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। কখনো তিনি ক্লিয়ারওয়াটারে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন, পরে মাছ ধরার জায়গা খুঁজতে গিয়েছিলেন বলেন, আবার দাবি করেন লিমন তাকে সেখানে নিয়ে যেতে বলেছিলেন।

২৪ এপ্রিল: মরদেহ উদ্ধার গ্রেপ্তার

হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে একটি কালো ব্যাগ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একটি আঘাত তার যকৃত ভেদ করেছে। একই দিনে লুটজ এলাকায় পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার অগ্রগতি

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুইটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যাসহ মরদেহ গোপন, প্রমাণ নষ্ট, মিথ্যা তথ্য দেওয়া হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

২৬ এপ্রিল একই ব্রিজ সংলগ্ন পানিতে মানবদেহের আরও অংশ উদ্ধার করা হয়, যা শনাক্তের কাজ চলছে।

তদন্তের আওতায় ওপেনএআই

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল ঘোষণা করেছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডে চ্যাটজিপিটির কোনো ভূমিকা আছে কিনা বা ওপেনএআই-এর কোনো অপরাধমূলক দায়বদ্ধতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওপেনএআই জানিয়েছে তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।

জামিন নামঞ্জুর

২৮ এপ্রিল আদালত অভিযুক্তকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। বিচার প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহতদের পরিবার প্রিয়জনদের মধ্যে শোক ক্ষোভ বিরাজ করছে, আর তদন্তকারীরা বলছেনঘটনার পেছনের পূর্ণ সত্য উদঘাটনে কাজ চলছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন