খুনি হিশামকে ‘সাইকোপ্যাথ’ হিসেবে সন্দেহ ছিল লিমনের
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে নতুন তথ্য। ঘটনায় গ্রেপ্তার লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে ‘সাইকোপ্যাথ’ বলে দাবি করছেন নিহতদের স্বজনেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে নতুন তথ্য। ঘটনায় গ্রেপ্তার লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে ‘সাইকোপ্যাথ’ বলে দাবি করছেন নিহতদের স্বজনেরা।
নিহত দুই শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরপরই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় হিশামকে।
বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার একটি জলাশয় থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে, তবে তা বৃষ্টির কি না তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করছে মেডিকেল পরীক্ষক অফিস।
লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ অভিযোগ করেন, রুমমেট হিশামকে নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ ছিল তাঁর ভাইয়ের। তিনি বলেন, লিমন বলতেন হিশাম খুব একটা সামাজিক ছিল না এবং তাঁকে “সাইকোপ্যাথ” ধাঁচের মনে হতো।
ঢাকা থেকে এক ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে জুবায়ের বলেন, “আমার ভাই তাকে কখনও পছন্দ করত না। সে অস্বাভাবিক আচরণ করত বলে সন্দেহ ছিল।” তিনি আরও বলেন, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর পরিবারে শোক নেমে আসে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
লিমনের লাশ পাওয়া যায় টাম্পা হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশে একটি ব্যাগের ভেতর থেকে। পরিবার জানায়, সেই রাত ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ রাত।
বৃষ্টির ভাই জাহিদ প্রান্তও বলেন, এই ঘটনা পুরো পরিবারকে ভেঙে দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এটা যেন শেষ না হওয়া দুঃস্বপ্ন।’
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া হিশামের ছোট ভাই আহমদ আবুগারবিয়েহ জানান, তিনিও তার ভাইকে নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তার ভাষায়, “১৮ বছর বয়সের পর থেকেই তার আচরণে বড় পরিবর্তন আসে, সে সহিংস হয়ে ওঠে।”
তদন্ত চলাকালে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে ইউএসএফ কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার, মরদেহ হস্তান্তর ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেরতের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফনের ব্যবস্থা করার অনুরোধও করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের পাশে রয়েছে এবং তদন্তে সহযোগিতা করছে।
ঘটনাটি ঘিরে এখনো প্রশ্ন একটাই—কীভাবে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটল, এবং এর পেছনে আসল সত্য কী?
ডালাস বার্তা ডেস্ক