সংস্কার ব্যর্থতায় ঋণের কিস্তি স্থগিত করেছে আইএমএফ

সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের জন্য ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। জুনের মধ্যে নির্ধারিত অর্থ ছাড় না দিয়ে সংস্থাটি অতিরিক্ত শর্তসহ নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

Apr 17, 2026 - 01:15
সংস্কার ব্যর্থতায় ঋণের কিস্তি স্থগিত করেছে আইএমএফ
ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে সংশোধন এনে পুরনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। ছবি: সংগৃহীত

সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের জন্য ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জুনের মধ্যে নির্ধারিত অর্থ ছাড় না দিয়ে সংস্থাটি অতিরিক্ত শর্তসহ নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

ওয়াশিংটনে বসন্তকালীন বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে আইএমএফ জানায়, রাজস্ব, ব্যাংকিং জ্বালানি খাতে নির্ধারিত সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়ায় কিস্তি ছাড়ে তারা আগ্রহী নয়। ফলে চলতি কর্মসূচির আওতায় জুনে . বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা ভেস্তে গেছে।

বর্তমান . বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির আওতায় এখনো প্রায় .৮৬ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী জানুয়ারিতে শেষ হবে। তবে শর্ত পূরণে অগ্রগতি না হলে অর্থ ছাড় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফের মতে, কর আহরণ বাড়ানো, ব্যাংক খাত সংস্কার, জ্বালানি ভর্তুকি কমানো এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর মতো মূল শর্তগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে সংশোধন এনে পুরনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি আরও বলেছে, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণে সরাসরি বাজেটের অর্থ ব্যবহার না করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

প্রেক্ষাপটে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক উত্তেজনার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা চাইছে। তবে আইএমএফের কঠোর অবস্থানের কারণে সরকার বিকল্প উৎস হিসেবে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গেও আলোচনা জোরদার করেছে।

২০২৩ সালে . বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি দিয়ে শুরু হওয়া কর্মসূচি পরবর্তীতে বাড়িয়ে . বিলিয়ন ডলারে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ইতোমধ্যে .৬৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হয়েছে।

আইএমএফের এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেছেন, বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণ কম এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও দুর্বল হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কর-জিডিপি অনুপাত কমে যাওয়া, ব্যাংক খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসা এবং বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক না হওয়াই আইএমএফের অসন্তুষ্টির মূল কারণ। তাদের মতে, এখন সরকারের সামনে দুটি পথশর্ত মেনে কর্মসূচি চালানো অথবা নতুন করে চুক্তি পুনর্বিন্যাস করা।

তথ্যসূত্র: টিবিএস