নদী রক্ষা কমিশন পাচ্ছে বিচারিক ক্ষমতা, খসড়া আইনে কঠোর শাস্তির প্রস্তাব
নদী দখল ও দূষণ রোধে কঠোর আইনগত কাঠামো গড়ে তুলতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় এসব অপরাধকে ফৌজদারি হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নদী দখল ও দূষণ রোধে কঠোর আইনগত কাঠামো গড়ে তুলতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় এসব অপরাধকে ফৌজদারি হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় খসড়াটি চূড়ান্ত করে জনমতের জন্য প্রকাশ করেছে। মতামত শেষে এটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হবে।
প্রস্তাবিত আইনে কমিশনকে শুধু সুপারিশের সীমা থেকে বের করে তদন্ত, অভিযান পরিচালনা এবং সরাসরি মামলা করার ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ও ‘আইনগত অভিভাবক’-এর স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা নদীর পক্ষে আইনি লড়াই সহজ করবে।
খসড়া অনুযায়ী, নদী দখল, ভরাট, দূষণ, বালু উত্তোলন ও প্রবাহ পরিবর্তনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পুনরাবৃত্তিতে শাস্তি দ্বিগুণ করার প্রস্তাবও রয়েছে।
এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প বা অবকাঠামো নির্মাণের আগে কমিশনের ‘অনাপত্তি’ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ ‘নদী আদালত’ গঠনের কথাও উল্লেখ আছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান মকসুমুল হাকিম চৌধুরী বলেন, “বর্তমানে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত। নতুন আইনে বিচারিক ক্ষমতা যুক্ত হলে কার্যকারিতা বাড়বে।”
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন কঠোর হলেও বাস্তব প্রয়োগই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক সমন্বয় ও নিয়মিত নজরদারি না থাকলে এই উদ্যোগও আগের মতো সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা