যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে ইরানি প্রতিনিধিদল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি আলোচনা সামনে রেখে পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে এই দলকে ইসলামাবাদের নূর খান বিমানঘাঁটিতে স্বাগত জানান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

Apr 10, 2026 - 23:43
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে ইরানি প্রতিনিধিদল
আলোচনার জন্য ইরানের প্রতিনিধিদল এখন ইসলামাবাদে। ছবি: সিনহুয়া

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি আলোচনা সামনে রেখে পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে এই দলকে ইসলামাবাদের নূর খান বিমানঘাঁটিতে স্বাগত জানান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং উপপ্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার প্রাক্কালে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ পার্লামেন্ট সদস্যরা রয়েছেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, আলোচনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেএমন আশা করছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে সংঘাতের একটি স্থায়ী টেকসই সমাধানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।

তবে আলোচনার টেবিলে ওঠার আগেই কয়েকটি কঠিন শর্ত সামনে এসেছে। ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং তাদের জব্দ করা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পূর্বশর্তই আলোচনার জটিলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে পারমাণবিক ইস্যু। বহু বছর ধরে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। যদিও তেহরান দাবি করে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক। কিন্তু সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর ইরান উল্লেখযোগ্য হারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান তাদের মজুতকৃত ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নিশ্চয়তা দিক। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার থেকে তারা কোনোভাবেই সরে আসবে না।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালীকেন্দ্রিক নতুন উত্তেজনা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ইরান সেখানে জাহাজ পরিদর্শন, শুল্ক আরোপ এবং প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের মতো নতুন নিয়ম চালুর ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে উপসাগরীয় দেশসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল চায়, অঞ্চলে ইরানের প্রভাব সীমিত করা হোক। বিপরীতে ইরান দাবি করছেসব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং সাম্প্রতিক সংঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

গত এক বছরে আলোচনার মধ্যেই দুইবার হামলার অভিজ্ঞতার কারণে ইরান এখন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে, যা আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের এই বৈঠক থেকে বড় কোনো সমাধান আসবেএমন আশা কম। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াটি টিকিয়ে রাখা গেলেই সেটিই বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স