ইসলামাবাদ বৈঠক ঘিরে অনিশ্চয়তা, যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে টানা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। শনিবার ইসলামাবাদ-এ দুই পক্ষের সরাসরি বৈঠকের কথা থাকলেও এর আগেই নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে টানা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। শনিবার ইসলামাবাদ-এ দুই পক্ষের সরাসরি বৈঠকের কথা থাকলেও এর আগেই নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
একদিকে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে বলেছে—যুক্তরাষ্ট্রকে হয় যুদ্ধ, নয়তো যুদ্ধবিরতি—একটি বেছে নিতে হবে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং লেবানন ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। ফলে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে ৪০ দিনের যুদ্ধে দুই পক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা হামলায় ইরানের সামরিক-বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাল্টা হামলায় ইসরায়েলও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিও বিশাল আকার নিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ১০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রয়েছে এবং রেড জোনের প্রবেশপথ সীমিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে আলোচনার আগেই শর্ত নিয়ে কড়াকড়ি অবস্থানে রয়েছে তেহরান। ইরান বলছে, লেবাননে হামলা বন্ধ এবং তাদের জব্দ সম্পদ মুক্তির বিষয় নিশ্চিত না হলে আলোচনা এগোবে না। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টিকেও এসব শর্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হোক। পাশাপাশি ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এসব বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে লেবাননে চলমান হামলা। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এই ইস্যুতে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের খবরও এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও কঠোর অবস্থানের কারণে এই আলোচনা অগ্রসর হওয়া কঠিন হতে পারে। কূটনৈতিক সমাধান না এলে আবারও সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন, বিবিসি