দিল্লি বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে আবারও ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দিল্লি সফরে এ বিষয়টি উত্থাপন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে আবারও ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দিল্লি সফরে এ বিষয়টি উত্থাপন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার জানায়, তিন দিনের সফরে নয়াদিল্লি-তে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হারদীপ সিংহ পুরির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘নির্দেশ ও ইন্ধনদাতা’ হিসেবে অভিযুক্ত করে গত ১৭ নভেম্বর ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায়ের চার দিন পরই ২১ নভেম্বর প্রথমবারের মতো প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় ঢাকা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ও কামাল ভারতে অবস্থান করছেন। এর আগে একই বিষয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও দিল্লিকে চিঠি দিয়েছিল, তবে সে অনুরোধের কোনো জবাব এখনো মেলেনি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বুধবার বলেন, ‘আমরা অনুরোধটি পেয়েছি এবং তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার মধ্যেই এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সহযোগিতার বিষয়ে ‘একমত’ হয়েছে উভয়পক্ষ।
এছাড়া বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা—বিশেষ করে মেডিকেল ও ব্যবসায়িক ভিসা—নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি সহযোগিতার অংশ হিসেবে ডিজেল ও সার সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানালে তা ‘অনুকূলভাবে বিবেচনার’ ইঙ্গিত দেন ভারতীয় মন্ত্রী পুরি।
তবে ভারতের প্রকাশিত বিবৃতিতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ডালাস বার্তা প্রতিবেদক