এবারও ফিফা বিশ্বকাপে দর্শক ইতালি
সাদা জার্সি পরে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মাঠে খেলতে নেমেছিল ইতালি। নীল জার্সি ছিল প্রতিপক্ষের গায়ে। কিন্তু প্লে-অফের ফাইনাল শেষে বেদনার নীল রংটা ঠিকই দর্শকেরা খুঁজে পেয়েছেন জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা, ময়েস কিনদের চোখেমুখে।
সাদা জার্সি পরে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মাঠে খেলতে নেমেছিল ইতালি। নীল জার্সি ছিল প্রতিপক্ষের গায়ে। কিন্তু প্লে-অফের ফাইনাল শেষে বেদনার নীল রংটা ঠিকই দর্শকেরা খুঁজে পেয়েছেন জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা, ময়েস কিনদের চোখেমুখে।
টাইব্রেকারে মঙ্গলবার হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার পর দু হাত মাথায় দিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন দোন্নারুমা। পাংশু মুখ। মাঠের এদিন ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তাঁর সতীর্থরাও হতাশায় নিমজ্জিত। ক্লোজআপে টিভি স্ক্রিনে ভেসে ওঠা ইতালিয়ান কোচ জেনারো গাত্তুসোর চোখেমুখেও রাজ্যের হতাশা। যন্ত্রণার দংশনে পুরোই নীল!
এর আগের দুই বিশ্বকাপেও খেলা হয়নি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালির। কাকতালীয় মিল, আগের দুই বিশ্বকাপেও প্লে-অফে বাদ পড়েছিল তারা। এ হিসেবে একইভাবে আরেক দফায় বাদ পড়াটা তো ‘এ আর নতুন কি’ হিসেবেই দেখার কথা! কিন্তু এবারের বিদায়কে বিশ্বকাপে ইতালির ‘মহাবিপর্যয়’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভাবা যায় একটা প্রজন্ম বড়ো হয়ে উঠেছে ইতালিকে বিশ্বকাপ খেলতে না দেখেই। যুক্তির হিসেবে যদি ধরেই নিই, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করবে ইতালি, তারপরও মাঝের ১৬টি বছর বিশ্বকাপের বাইরে তারা। এই বিশ্বকাপ ব্যর্থতা ফুটবলের দেশ ইতালির জন্য তো মহাবিপর্যয়ই। ‘ইতালীয় ফুটবলের বহমান দুঃস্বপ্ন’ শিরোনাম দিয়ে ইতালির দৈনিক পত্রিকা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘আমাদের ইতিহাসে এই প্রথম ইতালীয় শিশুরা বিশ্বকাপে ইতালির অংশগ্রহণ না দেখেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যাবে।’
ইতালিই প্রথম সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, যারা টানা তিনবার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হলো। গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তের সম্পাদকীয়ও ছেপেছে ফুটবলে ইতালির ব্যর্থতা নিয়ে। যেখানে ইতালির ফুটবলে ‘আমূল পরিবর্তনে’র তাগিদ দেওয়া হয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা আর বিশ্ব ফুটবলের অভিজাত পর্যায়ে নেই। এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা দুর্ঘটনা নয়। ...পুরো সিস্টেমটি নতুন করে গড়ে তোলা দরকার, আমরা আর অপেক্ষা করতে পারি না। এখন জরুরি অবস্থায় আছি আমরা এবং এই পরিস্থিতিতে একটাই সমাধান, ব্যতিক্রম পদক্ষেপ নেওয়া।’
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার অবস্থান ৬৬ নম্বরে, ইতালির অবস্থান ১২তম। তাই ম্যাচের আগে ফেবারিট ছিল ইতালিই। কিন্তু প্লে-অফের ফাইনালে নিজেদের সেরাটা দিয়ে তারা খেলতে পেরেছে কি! ময়েস কিনের ১৫ মিনিটের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইতালিই। আমর মেমিচকে ফাউল করে ৪১ মিনিটে লাল কার্ড দেখে বাস্তোনি মাঠ ছাড়লে একজনকে বেশি নিয়ে খেলে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। চড়াও হয়ে খেলতে থাকে তারা। ম্যাচের পরিসংখ্যানেও সুস্পষ্ট আধিপত্য বসনিয়ানদের। ইতালির ৩৫.১ শতাংশের বিপরীতে তাদের বল পজেশন ৬৪.৯ শতাংশ। লক্ষ্যে ইতালির ৩ শটের বিপরীতে ১১ শট বসনিয়ার। আর ইতালির মোট ৯ শটের বিপরীতে প্রতিপক্ষ মোট শট নিয়েছে ৩০টি।
তারপরও ৭৮ মিনিট পর্যন্ত এক গোলের অগ্রগামিতা ধরে রেখেছিল গাত্তুসোর দল। কোনো রকমে বাকি সময় পার করে দিতে পারলেই বিশ্বকাপে নাম লেখাত ইতালি। কিন্তু ৭৯ মিনিটে হারিস তাবাকোভিচ গোল করে বসেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ ১-১ গোলে অমীমাংসিত। নিষ্পত্তির জন্য খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। কিন্তু পেনাল্টি ভাগ্যটা এদিন ইতালির ছিল না। এসপোসিতো বল মারলেন পোস্টের ওপর। ক্রিস্তান্তের শট প্রতিহত ক্রসবারে। টাইব্রেকারের লটারি ভাগ্যে ইতালির হার ৪-১ গোলে।
ম্যাচ শেষে কান্নাভেজা কণ্ঠে ইতালির কোচ জেনারো গাত্তুসো বলেন, ‘বেদনাদায়ক। ইতালির সবার জন্য এবং নিজেদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটার (বিশ্বকাপে ওঠা) খুব দরকার ছিল। এই আঘাত হজম করা কঠিন।’ চাইলেন ক্ষমাও, ‘বাছাই উতরাতে না পারায় আমি ক্ষমা চাইছি।’
ডালাস বার্তা ডেস্ক