যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়তেই কিউবায় ‘আক্রমণ আতঙ্ক’, যুদ্ধ প্রস্তুতির নির্দেশ

কিউবাজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্ভাব্য “মার্কিন আগ্রাসন” মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

May 16, 2026 - 22:52
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়তেই কিউবায় ‘আক্রমণ আতঙ্ক’, যুদ্ধ প্রস্তুতির নির্দেশ
গত মে দিবসের ছবি এটি। কিউবার হাভানায় মে দিবসের এক সমাবেশে মানুষের হাতে দেশটির বিশাল পতাকা। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

কিউবাজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্ভাব্যমার্কিন আগ্রাসনমোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজধানী হাভানাতে বসবাসকারীরা বলছেন, দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি ঘাটতি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে এখন যুদ্ধের গুঞ্জন সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হাভানার বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ভবনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতিতে করণীয় পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে কিউবায় সামরিক অভিযানের কোনো ঘোষণা দেয়নি।

কিউবার সাধারণ মানুষের কাছে মার্কিন হামলার আশঙ্কা বহু পুরোনো বাস্তবতা। দেশটিতে প্রচলিত একটি ব্যঙ্গাত্মক বাক্য হলো—“আমেরিকানরা এলে সব ঠিক হবে।দীর্ঘদিনের সংকট নিয়ে হতাশা প্রকাশে এমন কথা প্রায়ই ব্যবহার করেন স্থানীয়রা।

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সপ্তাহে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির পরিচালক জন ্যাটক্লিফ হাভানা সফর করলে তা কিউবাজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকের কাছে এটি দুই দেশের সম্পর্ক চরম উত্তেজনার দিকে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কিউবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কর্মকর্তারা বলছেন, সফরের সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে কিউবা মার্কিন নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দ্বীপটিতে রাশিয়া চীনের গোয়েন্দা তৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

এদিকে সফরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাবেক কিউবান প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ গঠনের খবর প্রকাশ পায়। বিষয়টি কিউবার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনা ভেঙে পড়তে পারে এবং পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।

মে দিবসের বক্তব্যে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল বলেন, “আমরা প্রস্তুত। প্রয়োজনে বিপ্লবের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ইতোমধ্যে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণের ছবি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। কোথাও দেখা গেছে সোভিয়েত আমলের পুরোনো অস্ত্র নিয়ে মহড়া চলছে।

অন্যদিকে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খাবার নষ্ট হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনা জমে থাকছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কিউবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধে দেশটির জ্বালানি মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে খাদ্য পণ্যের সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতিতে কিছু কিউবান নাগরিক বলছেন, দীর্ঘ দুর্ভোগের চেয়ে সংঘাতই হয়তো দ্রুত কোনো পরিবর্তন আনতে পারে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে হাভানায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক নারী বলেন, “অর্ধেক মানুষ মারা গেলেও অন্তত বাকিরা শান্তিতে বাঁচতে পারবে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কোনো পরিবর্তনে কিউবার সরকার পতন ঘটে, তাহলে দেশটিতে রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এদিকে কিউবার সিভিল ডিফেন্স বিভাগ জনগণের জন্য একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের শুকনো খাবারসহ জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে অনেকেই এসব প্রস্তুতিকে বাস্তবতা বিবর্জিত বলছেন। হাভানার এক বাসিন্দার ভাষায়, “ওরা আমাদের এমনভাবে প্রস্তুতি নিতে বলছে যেন হারিকেন আসছে। অথচ আমাদের ঘরে তো আগেই সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন