জাবি ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের ভেতরেই ধর্ষণের চেষ্টা, ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা
ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, সেটাও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে! আত্মা শুকিয়ে যাওয়ার মতোই ঘটনা ঘটেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে। এক ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের ভেতরেই টেনেহিঁচড়ে ঝোপে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, সেটাও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে! আত্মা শুকিয়ে যাওয়ার মতোই ঘটনা ঘটেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে। এক ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের ভেতরেই টেনেহিঁচড়ে ঝোপে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৩ মে) রাত ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের এক সড়কে ঘটে অনাকাঙ্খিত এই ঘটনা। পরে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা একজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম।
ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হত্যাচেষ্টা ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা রুজু হয়েছে। মামলাটি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে। অতি দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবেন বলে তারা আশাবাদী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ১১টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের ভেতরে সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তার পিছু নেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়কে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই ছাত্রীর কাছাকাছি আসেন।
তখন তিনি ক্যাম্পাসের কেউ কি না, জিজ্ঞাসা করেন ওই ছাত্রী। উত্তরে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি ক্যাম্পাসের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং পাশের বিশমাইল এলাকায় থাকেন। কথা শেষে ভুক্তভোগীর গলায় জাল পেঁচিয়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
সূত্র আরও জানায়, ভুক্তভোগী কোনোমতে বেরিয়ে সড়কে চলে আসেন। এ সময় সড়কে চলাচলকারী কয়েকজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগীসহ শিক্ষার্থীরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে একজনকে দেখতে পান। তবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, গতকাল রাতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি শিক্ষার্থীর গলায় জালের মতো একটি বস্তু পেঁচিয়ে তাকে ঝোপঝাড়ে টেনে নিয়ে যান। ফুটেজের ভিত্তিতে তারা প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান এলাকা থেকে মিছিল বের করেন তাঁরা। মিছিলে সহস্রাধিক নারী শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মিছিলটি ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলের সামনে দিয়ে গিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে শেষ হয়। এর আগে রাত ১০টার দিকে বটতলা এলাকা থেকে ছাত্ররা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি টারজান এলাকায় গিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে যুক্ত হয়ে তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানায়।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ধর্ষকের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ক্যাম্পাসে ধর্ষণ করে, প্রক্টর কী করে?’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি জানান। পাঁচটি দাবি হলো- ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমকে দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে, ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে প্রক্টরিয়াল বডিকেও পদত্যাগ করতে হবে, নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স কার্যকরী টিম গঠন করতে হবে, ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতে হবে এবং কুইক রেসপন্স টিমে যুক্ত করতে হবে।
ডালাস বার্তা ডেস্ক