যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বৃহত্তম শহরের চারটিই এখন টেক্সাসে
যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর নতুন জনসংখ্যা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটির সবচেয়ে বড় ১০ শহরের মধ্যে এখন চারটিই টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে। একই সঙ্গে শীর্ষ ১২ শহরের মধ্যে পাঁচটিও টেক্সাসের দখলে, যা অন্য যেকোনো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর নতুন জনসংখ্যা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটির সবচেয়ে বড় ১০ শহরের মধ্যে এখন চারটিই টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে। একই সঙ্গে শীর্ষ ১২ শহরের মধ্যে পাঁচটিও টেক্সাসের দখলে, যা অন্য যেকোনো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি।
গত ১৪ মে প্রকাশিত ইউএস সেনসাস ব্যুরোর ‘ভিনটেজ ২০২৫’ জনসংখ্যা অনুমান অনুযায়ী, ফোর্ট ওয়ার্থ ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলকে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ম বৃহত্তম শহরে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে অস্টিন ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেকে ছাড়িয়ে ১২তম স্থানে উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের ১ জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল শহর এখনো নিউইয়র্ক সিটি, যার জনসংখ্যা প্রায় ৮৫ লাখ ৮৫ হাজার। এরপর রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস ও শিকাগো।
টেক্সাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় শহর হিউস্টন, যা জাতীয় তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এর জনসংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ ৯৭ হাজার। এছাড়া সান অ্যান্টোনিও সপ্তম, ডালাস নবম এবং ফোর্ট ওয়ার্থ দশম স্থানে রয়েছে।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, ফোর্ট ওর্থের জনসংখ্যা ১০ লাখ ২৮ হাজার ছাড়িয়েছে। অস্টিনের জনসংখ্যাও ১০ লাখের বেশি হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একই ডেটাসেটে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে টেক্সাসে নতুন বাসিন্দা যুক্ত হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৯১ হাজার। এতে অঙ্গরাজ্যটির মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ১৭ লাখ। এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির তালিকাতেও টেক্সাসের শহরগুলোর আধিপত্য দেখা গেছে। ২০২০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ১১টি শহরের মধ্যে ১০টিই টেক্সাসে। বিশেষ করে সেলিনা, ফুলশিয়ার ও প্রিন্সটনের মতো শহরগুলোতে দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ছে।
অন্যদিকে উত্তর টেক্সাসের উপশহরগুলোতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও ডালাস কাউন্টিতে সামান্য জনসংখ্যা কমেছে। তবে কলিন কাউন্টিতে এক বছরে নতুন বাসিন্দা যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টিগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। একই সময়ে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ-আর্লিংটন মেট্রোপ্লেক্স–এ জনসংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, করপোরেট সদর দপ্তর স্থানান্তর, আয়কর না থাকা, ব্যবসাবান্ধব নীতি এবং তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় টেক্সাসের প্রবৃদ্ধির বড় কারণ। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলে প্রায় ১০০টি কোম্পানি সদর দপ্তর স্থানান্তর করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কেএফসি তাদের মার্কিন সদর দপ্তর কেন্টাকির লুইসভিল থেকে প্ল্যানোতে সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া জার্মান এআই কোম্পানি কগনিজি সান ফ্রান্সিসকো থেকে উত্তর টেক্সাসে স্থানান্তর হয়েছে। কেয়ারডটকম অস্টিন থেকে ডালাসে কার্যক্রম সরিয়েছে। একইভাবে পল মিচেল ও এক্সনমোবিলসহ আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান টেক্সাসমুখী হয়েছে।
আয়ের দিক থেকেও টেক্সাসের বড় শহরগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অস্টিনে মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৯০ হাজার ৪৩০ ডলার, ফোর্ট ওয়ার্থে ৮২ হাজার ৫০৩ ডলার এবং ডালাসে ৭৪ হাজার ৩২৩ ডলার। হিউস্টন ও সান অ্যান্টোনিওতে এই আয় তুলনামূলক কম। পুরো টেক্সাসে মধ্যম পারিবারিক আয় ৭৮ হাজার ৪৭৬ ডলার, যেখানে জাতীয় গড় প্রায় ৮৩ হাজার ৭৩০ ডলার।
তথ্যসূত্র: দ্য ডালাস এক্সপ্রেস