বেইজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠক শুরু, অগ্রাধিকারে কোন আলোচনা
চীনে ঐতিহাসিক সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল–এ বৈঠক শুরু হয়।
চীনে ঐতিহাসিক সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল–এ বৈঠক শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য বিরোধ, শুল্কনীতি, প্রযুক্তি ও তাইওয়ান ইস্যু। গত অক্টোবরে ওয়াশিংটন ও বেইজিং শুল্কযুদ্ধ কমানোর বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকা সেই চুক্তির আওতায় উভয় দেশই পাল্টাপাল্টি শুল্ক বৃদ্ধি স্থগিত রেখেছে।
বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে মার্কিন পণ্য আমদানি বাড়ানোর ইঙ্গিত আসতে পারে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, আলোচনায় উঠে আসতে পারে ‘ফাইভ বিস’— অর্থাৎ বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ, গরুর মাংস ও সয়াবিন আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণে যৌথ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বোর্ড নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এদিকে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ‘থ্রি টিজ’— ট্যারিফ, প্রযুক্তি ও তাইওয়ান—কে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে আসা চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানগত বিরোধ আবারও আলোচনায় আসতে পারে।
বৈঠকের আগে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাজকীয় আয়োজনে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মাঝখানে বিছানো লাল গালিচা ধরে এগিয়ে এসে ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানান তিনি। মার্কিন জাতীয় সংগীত ‘দ্য স্টার-স্প্যাঙ্গলড ব্যানার’ বাজানোর পাশাপাশি ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে বাজানো হয় চীনের জাতীয় সংগীত।
বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারজুড়ে সামরিক ব্যান্ডের সুরের মধ্যে ট্রাম্প তার বিশেষ গাড়ি ‘দ্য বিস্ট’ থেকে নামেন। এ সময় চীনা সেনারা গুজ-স্টেপ কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন এবং হাতে দুই দেশের পতাকা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে স্কুলশিক্ষার্থীরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, পুরো বিশ্ব এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে তিনি ‘অস্থির ও উত্তাল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি ‘থুসিডাইডেস ট্র্যাপ’ এড়িয়ে নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে— এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। দুই দেশ একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীলতা দিতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মার্কিন স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে শি বলেন, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্যের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থ বেশি।
জবাবে ট্রাম্প শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠককে ‘সম্মানের বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া রয়েছে এবং অতীতে উদ্ভূত সমস্যাগুলো তারা দ্রুত সমাধান করেছেন।
শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “আমি সবার কাছেই বলি, আপনি একজন মহান নেতা।”
ট্রাম্প আরও জানান, সফরে বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদেরও তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। তার ভাষায়, এই বৈঠককে অনেকে এযাবৎকালের “সবচেয়ে বড় সম্মেলন” হিসেবে দেখছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স