ইরান-মার্কিন উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের ম্যাচে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোকে ঘিরে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে সন্ত্রাসবিরোধী দক্ষতার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোকে ঘিরে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে সন্ত্রাসবিরোধী দক্ষতার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় হুমকি আসতে পারে “হোমগ্রোন ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিস্ট” বা দেশীয় উগ্রবাদীদের কাছ থেকে। এদের অনেকেই অনলাইনে চরম রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ইসলামি স্টেটের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে এককভাবে হামলা চালাতে পারে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা জাভেদ আলি বলেন, শুধু স্টেডিয়াম নয়, খেলা ঘিরে পুরো অবকাঠামো—যাতায়াত, হোটেল, ফ্যান জোন—সবকিছুই নিরাপত্তার আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক ম্যাচের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ মোতায়েন করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে মার্চে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদবিরোধী ইউনিটের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ আয়োজন করে। সেখানে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জটিলতা দেখে কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো মিলিয়ে মোট ১০৪টি ম্যাচ হবে, যার মধ্যে ৭৮টি আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচগুলো হবে ডালাস, হিউস্টন, লস অ্যাঞ্জেলেস, মায়ামিসহ ১১টি শহরে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, কেবল ফাইনাল ম্যাচটিকেই “ন্যাশনাল স্পেশাল সিকিউরিটি ইভেন্ট” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ওই ম্যাচে সিক্রেট সার্ভিস, এফবিআই ও ফেমার সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় থাকবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে “সফট টার্গেট”—যেমন হোটেল, পরিবহন কেন্দ্র, বার, ফ্যান ফেস্ট ও বড় জনসমাগমের স্থানগুলো। সব ১১টি আয়োজক শহরেই অফিসিয়াল ফিফা ফ্যান ফেস্ট হবে, যেখানে বড় পর্দায় খেলা সম্প্রচার, কনসার্ট ও বিনোদনের আয়োজন থাকবে।
নিউইয়র্কভিত্তিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সাউফান গ্রুপের গবেষণা পরিচালক কলিন ক্লার্ক বলেন, ড্রোন এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। সহজলভ্য ও সহজে পরিচালনাযোগ্য হওয়ায় ব্যক্তি বা জঙ্গিগোষ্ঠী এগুলো হামলায় ব্যবহার করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতাও বড় ঝুঁকি। সাবেক সিআইএ ও এফবিআই কর্মকর্তা ট্রেসি ওয়ালডার বলেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, এফবিআই ও স্থানীয় পুলিশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে ব্যর্থতা অতীতেও বড় নিরাপত্তা ঘাটতির কারণ হয়েছে।
বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করেছে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ। ৩ জুলাই টেক্সাসে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন। একই সময়ে সৌদি রাজপরিবারের সদস্যদেরও বড় উপস্থিতি থাকতে পারে বলে জানা গেছে। সৌদি আরব ও ইরানের দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলছে।
যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ইরানের তথাকথিত “স্লিপার সেল” নিয়ে আতঙ্ক কিছুটা অতিরঞ্জিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একক হামলাকারীদের তৎপরতা বেড়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে কম জনবল দিয়েও বড় ধরনের ক্ষতি করা সম্ভব। বিশেষ করে সাইবার হামলা ও ড্রোনভিত্তিক আক্রমণ ভবিষ্যতের বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এফবিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান