রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ৩ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি চলবে বলে শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি চলবে বলে শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান তিনি।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের একটি যুদ্ধবিরতি (৯, ১০ ও ১১ মে) পালিত হবে।’
এর কিছুক্ষণ পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে দেওয়া পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার অংশ হিসেবেই এই যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ বলেন, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে টেলিফোন আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তার দাবি, ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক ফোনালাপের পরই এই চুক্তির পথ তৈরি হয়।
উশাকভের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মিত্রতার প্রসঙ্গ উঠে আসে। পাশাপাশি ৯ মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবস উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও আলোচনা হয়।
এর আগে রাশিয়া একতরফাভাবে ৯ মে বিজয় দিবস উপলক্ষে দুই দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ইউক্রেন দাবি করেছিল, তাদের পক্ষ থেকেও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও মস্কো তা উপেক্ষা করেছে।
ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতির এই অনুরোধ সরাসরি তার পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল। এতে সম্মত হওয়ায় দুই দেশের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ থাকবে এবং উভয় পক্ষ এক হাজার করে বন্দি বিনিময় করবে। বন্দি বিনিময়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলেনস্কিও।
ক্ষমতায় ফেরার পর দ্রুত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো শান্তি আলোচনা বড় ধরনের অচলাবস্থার মুখে রয়েছে।
রাশিয়া এই যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হিসেবে দেখছে এবং সামরিক শক্তির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ার আশা করছে। অন্যদিকে আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দোনেৎস্ক অঞ্চল। মস্কো পুরো অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ চাইলেও ইউক্রেন নিজেদের ভূখণ্ড ছাড়তে রাজি নয়।
যদিও জেলেনস্কি বারবার ভূখণ্ড হস্তান্তরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবে ট্রাম্পসহ পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলের কেউ কেউ মনে করছেন, যুদ্ধ বন্ধে কিয়েভের সামনে বিকল্প সীমিত হয়ে আসছে।
তথ্যসূত্র: এপি, বিবিসি