ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সালফিউরিক অ্যাসিডের সংকট: খাদ্য, ধাতু, কাগজ, কম্পিউটার চিপ খাত

পারস্য উপসাগরে চলমান যুদ্ধ এবং চীনের নতুন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শিল্প রাসায়নিক সালফিউরিক অ্যাসিডের বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এতে খাদ্য, ধাতু, কাগজ, কম্পিউটার চিপ, বিশুদ্ধ পানি ও ব্যাটারি শিল্পসহ বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে।

May 10, 2026 - 23:32
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সালফিউরিক অ্যাসিডের সংকট: খাদ্য, ধাতু, কাগজ, কম্পিউটার চিপ খাত
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী সালফারের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। ছবি: এপি’র সৌজন্যে

পারস্য উপসাগরে চলমান যুদ্ধ এবং চীনের নতুন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শিল্প রাসায়নিক সালফিউরিক অ্যাসিডের বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এতে খাদ্য, ধাতু, কাগজ, কম্পিউটার চিপ, বিশুদ্ধ পানি ব্যাটারি শিল্পসহ বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে।

সালফিউরিক অ্যাসিড তামা নিকেলের মতো -লৌহজাত ধাতু পরিশোধন, তেল গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফসফেট সার উৎপাদন, ইস্পাত পরিষ্কার, কাগজের মণ্ড প্রস্তুত এবং সেমিকন্ডাক্টর চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। পৌরসভাভিত্তিক পানি পরিশোধন ব্যবস্থাও এই রাসায়নিকের ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অ্যাসিড এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এর সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও বৈশ্বিক শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এটি অত্যন্ত ক্ষয়কারী হওয়ায় দীর্ঘ সময় মজুত রাখা বা দূরে পরিবহন করা ব্যয়বহুল ঝুঁকিপূর্ণ।

ধাতু প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান ভ্যালরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কুনাল সিনহা বলেন, বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর হাতে কয়েক সপ্তাহের বেশি মজুত থাকে না। ফলে হরমুজ প্রণালিতে কোনো বিঘ্ন বা পরিবহন সংকট দ্রুত বাজারে চাপ তৈরি করে।

বিশ্বের বড় অংশের সালফার আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল শোধনাগার গ্যাস কারখানা থেকে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অস্থিরতায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। একই সময়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চীন সালফার রপ্তানি সীমিত করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সালফার বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান একুইটি কমোডিটিজের পরিচালক ফ্রেডা গর্ডন বলেন, চীন চায় সারের দাম স্থিতিশীল রাখতে। তাই তারা রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে চিলি ইন্দোনেশিয়া। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর্গাস জানায়, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইন্দোনেশিয়ায় সালফারের দাম ৮০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। দেশটির নিকেল খনিগুলো ইতোমধ্যে উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে।

বিশ্বের শীর্ষ তামা উৎপাদনকারী দেশ চিলিতেও সালফিউরিক অ্যাসিডের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। বিশাল আকরিক স্তূপ থেকে তামা আলাদা করতে দেশটি বিপুল পরিমাণ অ্যাসিড আমদানি করে থাকে।

শিল্পসংগঠন সালফার ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রেইগ জর্গেনসন সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং ফসফেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য খনিজ উৎপাদন ধীর হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থায় থাকলেও বৈশ্বিক তামা উৎপাদন কমে গেলে এর প্রভাব মার্কিন অর্থনীতিতেও পড়বে। ডেটা সেন্টার, বৈদ্যুতিক গাড়ি, সার্কিট বোর্ড, বিদ্যুৎ অবকাঠামো আবাসন খাত ব্যাপকভাবে তামার ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে খনিশিল্প উদ্যোক্তা রবার্ট ফ্রিডল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান আইভানহো মাইনস সম্প্রতি কঙ্গোয় আফ্রিকার বৃহত্তম তামা গলানোর কারখানা চালু করেছে। সালফিউরিক অ্যাসিডের উচ্চ দামের কারণে তাদের কামোয়া-কাকুলা প্রকল্প প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ডলার অতিরিক্ত আয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফ্রিডল্যান্ড।

তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল