এইচ-১বি ভিসাধারী টেককর্মীর ন্যূনতম বেতন ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার করার প্রস্তাব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আসা এন্ট্রি-লেভেলের প্রযুক্তিকর্মীদের ন্যূনতম বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আসা এন্ট্রি-লেভেলের প্রযুক্তিকর্মীদের ন্যূনতম বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে, সান ফ্রান্সিসকোয় একজন এন্ট্রি-লেভেলের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে এইচ-১বি ভিসার যোগ্য হতে বছরে অন্তত ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার বেতন পেতে হবে । একই ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে ডালাসে ন্যূনতম বেতন হবে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ডলার এবং নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ডলার।
মার্কিন শ্রম বিভাগ গত ২৭ মার্চ এ প্রস্তাব প্রকাশ করে। এতে এইচ-১বি ও পার্ম (PERM) বা স্থায়ী শ্রম অনুমোদন প্রক্রিয়া ভিসা কর্মসূচির প্রচলিত মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে এন্ট্রি-লেভেলের বেতন কাঠামো নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট পেশার আয়ের ১৭তম পারসেন্টাইলের ভিত্তিতে। নতুন প্রস্তাবে সেটি বাড়িয়ে ৩৪তম পারসেন্টাইলে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এর ফলে চারটি বেতন স্তরের সবগুলোতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। সিনিয়র পর্যায়ের ‘লেভেল-৪’ ক্যাটাগরির জন্য বেতনের সীমা ৬৭তম পারসেন্টাইল থেকে বাড়িয়ে ৮৮তম পারসেন্টাইলে নেওয়া হবে।
শ্রম বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ পরিবর্তনের ফলে প্রতিটি পদের বার্ষিক খরচ গড়ে প্রায় ১৪ হাজার ডলার বাড়তে পারে। তবে ব্যয়বহুল শহরগুলোয় সিনিয়র পদে এই বৃদ্ধি আরও বেশি হবে। উদাহরণ হিসেবে, সিলিকন ভ্যালিতে একজন সিনিয়র ডাটা সায়েন্টিস্টের ন্যূনতম বেতন ৪৫ হাজার ডলারেরও বেশি বাড়তে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বর্তমান বেতন কাঠামো ১৯৯০-এর দশকের পুরোনো মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত এবং তা মার্কিন কর্মীদের প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম। নতুন নিয়মের মাধ্যমে কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রবণতা কমানোই লক্ষ্য।
তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে কোম্পানিগুলো নতুন নিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে অথবা কাজ আরও বেশি বিদেশে আউটসোর্স করতে পারে। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তির বিস্তারও প্রযুক্তিখাতে নিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি ১ লাখ ডলারে উন্নীত করে, যেখানে আগে এই খরচ ছিল ২ থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। আদালতও পরে সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
বর্তমানে অ্যামাজন সবচেয়ে বড় এইচ-১বি স্পন্সর প্রতিষ্ঠান, যেখানে ১০ হাজারের বেশি কর্মী এই ভিসায় কাজ করছেন। এছাড়া মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল ও গুগলও হাজার হাজার কর্মী স্পন্সর করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি খরচ বহন করতে পারলেও ছোট আইটি প্রতিষ্ঠান, আউটসোর্সিং কোম্পানি এবং বিদেশি গবেষক-প্রকৌশলীদের ওপর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়বে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ বিদেশি পোস্টডক ও গবেষকদের জন্য এইচ-১বি অন্যতম প্রধান কর্মসংস্থানের পথ।
প্রস্তাবটির ওপর জনমত গ্রহণ ২৬ মে পর্যন্ত চলবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে হলে তা ২০২৬ সালের শেষ দিকে চালু হতে পারে।
তথ্যসূত্র: টিএনডব্লিউ