যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে ‘ডাকাতির নাটক’, ১০ ভারতীয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো ডাকাতির নাটক করার অভিযোগে ১০ ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বোস্টনের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো ডাকাতির নাটক করার অভিযোগে ১০ ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বোস্টনের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্তরা বিভিন্ন দোকানের কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সশস্ত্র ডাকাতির ভুয়া ঘটনা সাজাতেন। পরে ওই কর্মীরা নিজেদের ‘অপরাধের শিকার’ দাবি করে ইউ ভিসার জন্য আবেদন করতেন।
এই ভিসাটি সাধারণত গুরুতর অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রদান করে থাকে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জিতেন্দ্রকুমার প্যাটেল, মহেশকুমার প্যাটেল, সঞ্জয়কুমার প্যাটেল, দীপিকাবেন প্যাটেল, রমেশভাই প্যাটেল, অমিতা বাহেন প্যাটেল, রোনাককুমার প্যাটেল, সংগীতাবেন প্যাটেল, মিনকেশ প্যাটেল ও সোনাল প্যাটেল।
তাদের মধ্যে দীপিকাবেন প্যাটেলকে ইতোমধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রমেশভাই প্যাটেল ও রোনাককুমার প্যাটেল বর্তমানে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদের আগে অপরাধমূলক অভিযোগের পর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সাজা শেষ হলে অভিযুক্ত সবাইকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) করা হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চে এই চক্রের মূল হোতা রমেশভাই প্যাটেল ও তাঁর সহযোগীরা ম্যাসাচুসেটসসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি দোকানে সাজানো ডাকাতির ঘটনা ঘটান। এর উদ্দেশ্য ছিল দোকানকর্মীদের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে দেখিয়ে তাদের অভিবাসন আবেদনে সুবিধা করে দেওয়া।
অভিযোগে বলা হয়, এসব ঘটনায় একজন ভুয়া ডাকাত অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেত এবং পুরো ঘটনাটি সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা হতো। পরে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে দোকানকর্মী বা মালিকেরা পুলিশকে খবর দিতেন, যাতে ঘটনাটি বাস্তব মনে হয়।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রমেশভাই প্যাটেল ও তাঁর গাড়িচালক বলিউন্দর সিং গ্রেপ্তারের পর শুরু হওয়া তদন্ত থেকে। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে তারা দুজনই দোষী সাব্যস্ত হন।
এই ঘটনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থাকে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবহারের একটি বড় চক্রের চিত্র সামনে এসেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু