যুদ্ধ শেষে না হলে হরমুজে পুরোপুরি মাইন অপসারণ সম্ভব নয়: পেন্টাগন
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। একই সঙ্গে তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও কম।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। একই সঙ্গে তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও কম।
কংগ্রেসে পেন্টাগনের একটি গোপন ব্রিফিং সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে। আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে, প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে ২০টিরও বেশি মাইন পেতে রাখা হতে পারে। এর কিছু জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকে মোতায়েন করা হয়েছে, ফলে সেগুলো শনাক্ত করা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ এতে ইঙ্গিত মিলছে, সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব—বিশেষ করে তেল ও জ্বালানির উচ্চমূল্য—বছরের বড় অংশজুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে, মাইন পাতা নিয়ে ভিন্নমুখী বক্তব্য পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান হয়তো মাইন সরিয়ে ফেলেছে বা সরিয়ে নিচ্ছে এবং মার্কিন হামলায় তাদের বেশিরভাগ ‘মাইন ড্রপার’ ধ্বংস হয়েছে। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘প্রচারযুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী নিরাপদ নৌপথের মানচিত্র প্রকাশ করেছে।
হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতা নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন আসে মার্চের শুরুতে। পরে মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা দেন, বড় জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার পর ছোট নৌযান ব্যবহার করে এসব মাইন মোতায়েন করা হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একই অবস্থান নিয়েছে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডও । আর হোয়াইট হাউস এ সংক্রান্ত সব প্রশ্ন পেন্টাগনের কাছে পাঠিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট