হরমুজে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ, দেড় মাসে হামলার শিকার ২২
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। গত দেড় মাসে অন্তত ২২টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে শিপিং ডেটা সংস্থা।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। গত দেড় মাসে অন্তত ২২টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে শিপিং ডেটা সংস্থা।
কেপলার ও এলএসইজির তথ্যে দেখা যায়, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি জাহাজ চলাচল করলেও ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৭৯টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। যুদ্ধবিরতির পরও গতি স্বাভাবিক হয়নি—৮ এপ্রিলের পর চলাচল করেছে মাত্র ৪৫টি জাহাজ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার পরও মঙ্গলবার অন্তত তিনটি ট্যাংকার হরমুজ পার হয়েছে। পানামার পতাকাবাহী ‘পিস গালফ’সহ আরও দুটি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে, যেগুলো ইরানি বন্দরে না যাওয়ায় অবরোধের আওতায় পড়েনি।
সংঘাতের মধ্যে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন রুট নির্ধারণ করেছে। মাইন থাকার আশঙ্কায় আগের পথ ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করে লারাক দ্বীপের উত্তর দিক দিয়ে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের জলসীমায়। এছাড়া ইরাক, কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত ট্যাংকার আটকা পড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর অচলাবস্থা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বৈশ্বিক বাজারে। ইতোমধ্যে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা