আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি, আড়াই শতাধিক বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা নিখোঁজ
আন্দামান সাগরে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ট্রলারডুবির ঘটনায় অন্তত ২৫০ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছেন। ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্দামান সাগরে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ট্রলারডুবির ঘটনায় অন্তত ২৫০ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছেন। ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ৯ জন যাত্রী জীবিত উদ্ধার হওয়ার পর। তাঁদের মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি ও ৩ জন রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানায়, ৯ এপ্রিল বিকেলে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ ভাসমান অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে। পরে তাদের কোস্ট গার্ডের টহল জাহাজে নেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া এক রোহিঙ্গা যুবকের দাবি, ট্রলারটিতে ক্রুসহ প্রায় ২৮০ জন ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ জন রোহিঙ্গা, বাকিরা বাংলাদেশি। যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।
বেঁচে ফেরা যাত্রীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। উত্তাল সাগরে পড়ার পর পাচারকারীরা যাত্রীদের ছোট ছোট কুঠুরিতে গাদাগাদি করে ঢুকতে বাধ্য করে। এতে শ্বাসরোধে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হয়। পরে বড় ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। কেউ পানির বোতল, কেউ ট্যাংক ধরে ভেসে থেকে প্রাণ বাঁচান।
জানা গেছে, ট্রলারটি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ছেড়ে মালয়েশিয়ার দিকে যাচ্ছিল। যাত্রার আগে অনেককে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আটকে রেখে পরে সমুদ্রপথে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জনকে সন্দেহভাজন পাচারকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাগুলো বলছে, এই দুর্ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এবং টেকসই সমাধানের অভাবের করুণ প্রতিফলন। পাশাপাশি বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে জীবনযাত্রার সংকট, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে ঠেলে দিচ্ছে।
তাদের মতে, নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় এবং পাচারকারীদের ভ্রান্ত প্রলোভনে পড়ে মানুষ এ ধরনের বিপজ্জনক যাত্রায় নামছে। দ্রুত মূল কারণগুলো সমাধান না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাগুলো।
ডালাস বার্তা প্রতিবেদক