কুয়েত, বাহরাইনে ইরানের হামলা, কেশম দ্বীপে পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এর জবাবে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে।

Jun 2, 2026 - 22:21
কুয়েত, বাহরাইনে ইরানের হামলা, কেশম দ্বীপে পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরান কুয়েত বাহরাইনের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন ছুড়েছে। এর জবাবে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপেআত্মরক্ষামূলকহামলা চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড  (সেন্টকম) জানায়, আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে মার্কিন বাহিনী তা প্রতিহত করে। সেন্টকমের দাবি, কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের দিকে ছোড়া দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই বিকল হয়ে পড়ে বা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে বাহরাইনের দিকে নিক্ষেপ করা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র বাহরাইনের যৌথ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করে। হামলার আগে উভয় দেশেই বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়।

এদিকে ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কেশম শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

সংঘাতের সূত্রপাত নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। ইরানের আইআরজিসির দাব, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্যাঙ্কারের ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জবাবে তারা একটি মার্কিন-ইসরায়েলি জাহাজে নৌ-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

পরে মার্কিন বাহিনী কেশম দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে আইআরজিসির একটি যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর এবং মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে অবস্থানরত কয়েকটি হেলিকপ্টার।

তবে এসব দাবি সরাসরি নাকচ করেছে সেন্টকম। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনই নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইরানের সব হামলাই ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় প্রস্তুত।

মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও দাবি করেছে, পরে কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরান অতিরিক্ত ড্রোন হামলার চেষ্টা চালায়। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই ড্রোনগুলোও ভূপাতিত করে এবং এতে কোনো মার্কিন সদস্য বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি।

তবে সংঘর্ষের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং উভয় পক্ষের দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি উপসাগরীয় অঞ্চলে এই নতুন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা