ডেনমার্কের মন্ত্রিসভায় পুরুষের চেয়ে নারী মন্ত্রীর সংখ্যা বেশি

ডেনমার্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশের মন্ত্রিসভায় পুরুষের তুলনায় নারী মন্ত্রীর সংখ্যা বেশি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন নতুন জোট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করে এ তথ্য জানিয়েছেন।

Jun 3, 2026 - 22:16
ডেনমার্কের মন্ত্রিসভায় পুরুষের চেয়ে নারী মন্ত্রীর সংখ্যা বেশি
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। ছবি: সংগৃহীত

ডেনমার্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশের মন্ত্রিসভায় পুরুষের তুলনায় নারী মন্ত্রীর সংখ্যা বেশি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন নতুন জোট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ জুন) পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে নতুন মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেন ফ্রেডেরিকসেন। ২১ সদস্যের মন্ত্রিসভায় ১১ জন নারী এবং ১০ জন পুরুষ স্থান পেয়েছেন, যা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্চে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর কয়েক মাসের আলোচনা শেষে গত ১ জুন নতুন সংখ্যালঘু জোট সরকার গঠনের ঘোষণা দেন ফ্রেডেরিকসেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের সঙ্গে সরকারে যোগ দিয়েছে সোশ্যালিস্ট পিপলস পার্টি, মধ্য-বামপন্থী রাডিকালে ভেনস্ত্রে এবং মধ্যপন্থী মডারেটস পার্টি।

নতুন মন্ত্রিসভায় আগের সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ বহাল রয়েছেন। নির্বাচনের পর ‘কিংমেকার’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মডারেটস নেতা লার্স লোকে রাসমুসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন নিজের দলের পিটার হামেলগার্ডকে। সাবেক অর্থমন্ত্রী নিকোলাই ওয়ামেনকে করা হয়েছে বিচারমন্ত্রী। দুজনকেই ভবিষ্যতে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের নেতৃত্বের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে দেখা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হামেলগার্ডকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত ফ্রেডেরিকসেনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে তাঁর পছন্দের ইঙ্গিত বহন করছে।

গত ২ জুন প্রকাশিত সরকারের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কঠোর অভিবাসননীতি বজায় রাখার অঙ্গীকারও করা হয়েছে।

মার্চের নির্বাচনে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস ১৯০৩ সালের পর সবচেয়ে খারাপ ফল করলেও ৩৮টি আসন নিয়ে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। তবে নির্বাচনে বাম ও ডান—কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

১৭৯ আসনের পার্লামেন্টে নতুন চারদলীয় জোট সরকারের হাতে রয়েছে মাত্র ৮২টি আসন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের ক্ষেত্রে সরকারকে অন্যান্য দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে।

তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু