উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা জোরদার, তেল-গ্যাস বাজারে অস্থিরতা

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে ইরান, যা চলমান যুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ধাক্কা দিয়েছে। এই হামলা এসেছে ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে আঘাতের জবাবে।

Mar 19, 2026 - 12:22
উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা জোরদার, তেল-গ্যাস বাজারে অস্থিরতা
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের একটি গ্যাস স্টেশনে জ্বালানির দাম প্রদর্শন করা হচ্ছে। ছবি: এপি’র সৌজন্যে

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল গ্যাস স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে ইরান, যা চলমান যুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ধাক্কা দিয়েছে। এই হামলা এসেছে ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে আঘাতের জবাবে।

হামলার ফলে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল ব্যারেলপ্রতি ১১৮ ডলার পর্যন্ত ওঠে, যা যুদ্ধ শুরুর পর ৬০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। একই সঙ্গে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম একদিনে ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়, সেখানে ইরানের নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

কাতার, সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনাগুলোয় ইরানি হামলার অভিযোগ উঠেছে। কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সৌদি আরবের ইয়ানবুতে অবস্থিত একটি রিফাইনারিতেও ড্রোন হামলা হয়েছে।

এদিকে উপসাগরীয় জলসীমায় জাহাজে হামলার ঘটনাও বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে একটি জাহাজে আগুন এবং কাতারের কাছে আরেকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুদ্ধের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটি এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন হামলা চালাতে সক্ষম। ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ইরানি হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীপ পিট হেগসেথ বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ এখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, তেহরান যদি আরব দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাতে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

এর আগে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। এই ক্ষেত্রটি কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, এই হামলার পরিণতিনিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারেএবং তা বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কাতারের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, স্থলবাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা নেই।

তথ্যসূত্র: এপি