নগদে কেনাকাটা করা ক্রেতারাই দিচ্ছেন ক্রেডিট কার্ডের ‘বিলাসী’ সুবিধার খরচ
নগদ অর্থ বা ডেবিট কার্ডে কেনাকাটা করা মার্কিন ভোক্তারা প্রতি বছর প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার পরোক্ষভাবে ভর্তুকি দিচ্ছেন প্রিমিয়াম ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের পয়েন্ট, ক্যাশব্যাক ও ভ্রমণ-সুবিধার জন্য। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।
নগদ অর্থ বা ডেবিট কার্ডে কেনাকাটা করা মার্কিন ভোক্তারা প্রতি বছর প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার পরোক্ষভাবে ভর্তুকি দিচ্ছেন প্রিমিয়াম ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের পয়েন্ট, ক্যাশব্যাক ও ভ্রমণ-সুবিধার জন্য। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের হাভার্ড বিজনেস স্কুলের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোর বাড়তি লেনদেন ফি শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে যোগ হয়। ফলে যারা নগদ অর্থ বা ডেবিট কার্ডে মূল্য পরিশোধ করেন, তারাও সেই অতিরিক্ত মূল্য বহন করেন, কিন্তু কোনো পুরস্কার বা সুবিধা পান না।
গবেষণার সহলেখক ও অধ্যাপক মার্ক ইগান বলেন, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা বেশি দাম দিলেও পরে বিভিন্ন রিওয়ার্ডের মাধ্যমে সেই অর্থের একটি বড় অংশ ফিরে পান। কিন্তু নগদে মূল্য পরিশোধকারীরা একই বাড়তি দাম দেন, অথচ কোনো সুবিধা পান না।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষদের কাছ থেকে উচ্চ আয়ের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। গবেষকদের মতে, নগদে কেনাকাটা করা মানুষের জন্য এর প্রভাব বিক্রয় কর গড়ে ১৬ শতাংশ বাড়ানোর সমান।
এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোর ফি ক্রমেই বাড়ছে। তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তার এবং প্রিমিয়াম কার্ডের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে ব্যবসায়ীদের ব্যয়ও বেড়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রতিষ্ঠান নিলসন রিপোর্টের হিসাবে, ২০১৯ সালের তুলনায় ব্যবসায়ীদের পরিশোধ করা ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড ফি ৭০ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালে ১৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ভিসা ও মাস্টারকার্ড।
খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠন ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন দাবি করেছে, এই ফিগুলোর কারণে একটি মার্কিন পরিবারকে বছরে গড়ে ১,২০০ ডলারের বেশি অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রিমিয়াম ক্রেডিট কার্ড সাধারণত উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের মধ্যেই বেশি জনপ্রিয়, কারণ এসব কার্ডে উচ্চ বার্ষিক ফি এবং কঠোর ঋণযোগ্যতার শর্ত থাকে। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো নগদ অর্থ ব্যবহারের ওপর বেশি নির্ভরশীল।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ২০২৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, বছরে ২৫ হাজার ডলারের কম আয় করা পরিবারগুলো তাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কেনাকাটায় নগদ অর্থ ব্যবহার করে। বিপরীতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি আয় করা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ৯ শতাংশ।
তবে ক্রেডিট কার্ড শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী ইলেকট্রনিক পেমেন্ট কোয়ালিশন গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে একমত নয়। সংগঠনটির দাবি, গবেষণাটি নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার খরচ, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং দ্রুত লেনদেনের মতো সুবিধাগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়নি।
এদিকে বাড়তি ফি নিয়ে বহু বছর ধরেই বিরোধে জড়িত খুচরা ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে এসব ফি সীমিত করার জন্য আইন প্রস্তাব করা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নগদে মূল্য পরিশোধকারীদের জন্য ছাড় অথবা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য অতিরিক্ত চার্জ আরোপ শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেডিট কার্ডের পুরস্কারভিত্তিক ব্যবস্থার সুবিধা যেমন কিছু গ্রাহক পাচ্ছেন, তেমনি এর খরচের বড় অংশ বহন করছেন এমন মানুষ, যাদের সেই সুবিধাগুলো পাওয়ার সুযোগই নেই। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান আয় ও সম্পদ বৈষম্যের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই বিতর্ক।
তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ