নতুন করে মার্কিন সেনা নিহত হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলার দায় কার্যত স্বীকার করেছে ইরান।

Jun 4, 2026 - 22:41
নতুন করে মার্কিন সেনা নিহত হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
নতুন করে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হলে এর পরিণতি ইরানকে ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: আনাদোলু

মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলার দায় কার্যত স্বীকার করেছে ইরান।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “যদি তারা কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা করে, সেটি যুদ্ধবিরতি শেষ করার যথেষ্ট কারণ হবে। এমন কিছু ঘটলে আমি খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কুয়েতে চালানো হামলার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, কোনো আঞ্চলিক দেশের ভূখণ্ড নয়।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করছে বিষয়ে আমরা আগে থেকেই আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করেছিলাম। আমাদের প্রতিক্রিয়া ছিল মার্কিন ঘাঁটির বিরুদ্ধে, কোনো দেশের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে নয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতেঅপারেশন এপিক ফিউরিচলাকালে ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। এর মধ্যে সাতজন ইরানি হামলায় এবং ছয়জন ইরাকে একটি সামরিক বিমানের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।

তবে এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি, যদিও মাঝেমধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নতুন সামরিক প্রতিক্রিয়ার নির্দেশনা না দিলেও, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, কোনো মার্কিন সেনা নিহত হলে ট্রাম্পের ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে যেতে পারে।

এর আগে বুধবার কুয়েতে ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ১৭টি ড্রোন হামলার ঘটনাকে তুলনামূলকভাবে হালকাভাবে দেখেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অনেক সময় যুদ্ধবিরতির অর্থ হলোকম মাত্রায় গুলি চালানো।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কুয়েতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জারাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহর সঙ্গে ফোনালাপের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতের নিরাপত্তা, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

একই সঙ্গে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের অন্যান্য স্থাপনায় ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহত আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

আঞ্চলিক সূত্রগুলোর দাবি, মার্কিন সেনা উপস্থিত দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল থেকে সরিয়ে দিতে চায় ইরান। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো দেশ মার্কিন বাহিনী বহিষ্কারের পথে হাঁটেনি, তবে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নীরবে সহায়তা করে যাচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৭০টি জাহাজ প্রণালিটি নিরাপদে অতিক্রম করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জাহাজকে এসকর্ট না করলেও নিরাপদে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোনগুলোর বেশিরভাগই প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কোনো হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হলে সংঘাত নতুন করে বড় আকার ধারণ করতে পারে।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট