শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রর পদক্ষেপ, ইরানি বন্দরগুলোয় নৌ অবরোধ
পাকিস্তানে ব্যর্থ শান্তি আলোচনার পর ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দরে নৌ অবরোধ ওয়াশিংটন কার্যকর করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
পাকিস্তানে ব্যর্থ শান্তি আলোচনার পর ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দরে নৌ অবরোধ ওয়াশিংটন কার্যকর করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া সব ধরনের সামুদ্রিক জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর ঘিরে ইরানের উপকূলীয় এলাকাগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।
তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো—হরমুজ প্রণালিতে সাধারণ নৌ চলাচলে সরাসরি বাধা দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানি নয় এমন বন্দরে যাওয়া জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের পূর্ণ অবরোধ হুমকি থেকে আংশিক সরে আসা।
অবরোধের ঘোষণার পরই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ ডলার ছাড়িয়েছে, আর ব্রেন্ট ক্রুড ১০২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
গত ফেব্রুয়ারির যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ শক্ত করেছে ইরান। বিশ্ব জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় সেখানে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। ইরান নিজস্ব জাহাজ চলাচল চালু রাখলেও অন্য দেশগুলোর জন্য সীমিত অনুমতি দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই পথ ব্যবহার করে টোল আদায়ের পরিকল্পনাও করছে তেহরান।
মার্কিন অবরোধের জবাবে আইআরজিসি সতর্ক করেছে—ইরানের দিকে অগ্রসর যেকোনো সামরিক জাহাজকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে এবং কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আলোচনায় ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বলেছেন, শেষ মুহূর্তে শর্ত বদলে দেয় ওয়াশিংটন।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর শুরু হওয়া এই অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল অর্থনৈতিক চাপ নয়—বরং বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের পূর্বাভাসও হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা