আরেকটি বৈঠকের পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামাবাদে যেতে পারেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনালাড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক হতে পারে। এতে দুই দেশের চলমান সংঘাত অবসানের আশাবাদ আরও জোরালো হয়েছে। চূড়ান্ত আলোচনা ও সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফরের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

Apr 17, 2026 - 00:52
আরেকটি বৈঠকের পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামাবাদে যেতে পারেন ট্রাম্প
আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনালাড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক হতে পারে। এতে দুই দেশের চলমান সংঘাত অবসানের আশাবাদ আরও জোরালো হয়েছে। চূড়ান্ত আলোচনা সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফরের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইরান আগামী ২০ বছর কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রস্তাব দিয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে ইসলামাবাদে গত সপ্তাহের আলোচনায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা দেখছি কী ঘটে, তবে ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুব কাছাকাছি আছি।পরে লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধখুব শিগগিরই শেষ হওয়া উচিত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথ খুলে দিতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তেলের দাম কমবে, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পাবে এবং পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি কমবে। তবে সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছে, ইরান তাদের সব পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখবে। বিপরীতে তেহরান তিন থেকে পাঁচ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে। ওয়াশিংটন উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার শর্ত দিয়েছে, আর ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত মিলছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় তেহরানে সাম্প্রতিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত। অপরদিকে ইরান জানিয়েছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি ছাড়া তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে না।

সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা