ইরানি বন্দর অবরোধে ট্রাম্পের পদক্ষেপে যোগ দেবে না যুক্তরাজ্য

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বন্দর অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াচ্ছে না যুক্তরাজ্য। সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে বলেছেন, তাদের দেশ এই অবরোধকে সমর্থন করছে না এবং ইরান যুদ্ধেও জড়াতে চায় না।

Apr 13, 2026 - 13:48
ইরানি বন্দর অবরোধে ট্রাম্পের পদক্ষেপে যোগ দেবে না যুক্তরাজ্য
হরমুজ প্রণালিতে নৌযান। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বন্দর অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াচ্ছে না যুক্তরাজ্য। সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে বলেছেন, তাদের দেশ এই অবরোধকে সমর্থন করছে না এবং ইরান যুদ্ধেও জড়াতে চায় না।

একই সময়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে খুব শিগগিরই একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। এর লক্ষ্য থাকবে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

স্টারমার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা অবরোধকে সমর্থন করছি না। আমাদের সব কূটনৈতিক সামরিক প্রস্তুতি এই প্রণালীকে খোলা রাখার দিকেই কেন্দ্রীভূত।তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্যের মাইন অপসারণ সক্ষমতা থাকলেও তা আক্রমণাত্মক নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে যুক্তরাজ্য চেষ্টা করছে যেন প্রণালীটি খোলা রাখা যায়, বন্ধ না হয়।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সোমবার (যুক্তরাষ্ট্র সময় সকাল ১০টা) থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর হবে। তার দাবি, এই উদ্যোগে আরও কিছু দেশ যুক্ত হবে, যাতে ইরান তেল রপ্তানি করতে না পারে। তবে তিনি কোন কোন দেশ এতে অংশ নিচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে বলেননি।

এই পদক্ষেপ আসে ওয়াশিংটন তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে কোনো সমঝোতা আনতে পারেনি।

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে এই অবরোধে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অনীহা দেখা যাচ্ছে। জার্মানি ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। বার্লিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্যস্পষ্ট তথ্যভিত্তিক নয়এবং দেশটি ইরান যুদ্ধেও সামরিকভাবে জড়াবে না।

অন্যদিকে ম্যাক্রোঁ এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ফ্রান্স যুক্তরাজ্য যৌথভাবে এমন একটিশান্তিপূর্ণ বহুজাতিক মিশনগঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে, যা যুদ্ধরত পক্ষগুলোর বাইরে থেকে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করবে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই এই মিশন মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্টারমার বলেন, ইরান সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষ অনুভব করছে, বিশেষ করে জ্বালানি ব্যয়ের ক্ষেত্রে। তিনি জানান, ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ পড়ুকএটা তারা চান না।

তবে জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী কি নাএমন প্রশ্নে স্টারমার ইঙ্গিত দেন, মূল সমস্যা তৈরি করছে ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালীতে নৌ চলাচল সীমিত করা।

তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, এই যুদ্ধে জড়াব না। তবে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে আমরা যুক্ত আছি।

তথ্যসূত্র: সিএনবিসি