আলোচনা নয়, শর্ত চাপাতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামাবাদ বৈঠক নিয়ে ইরানের অভিযোগ

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন আলোচনায় করতে নয়, শর্ত চাপাতে এসেছিল ইসলামাবাদে।

Apr 12, 2026 - 22:37
আলোচনা নয়, শর্ত চাপাতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামাবাদ বৈঠক নিয়ে ইরানের অভিযোগ
ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন আলোচনায় করতে নয়, শর্ত চাপাতে এসেছিল ইসলামাবাদে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সংক্ষিপ্তভাবে ব্যর্থতার ব্যাখ্যা দেন—‘তারা আমাদের শর্ত মেনে নেয়নি।তবে ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এই মন্তব্যকে তুলে ধরে বলেন, “শুধুআমাদের/তোমাদের শর্তদিয়ে কোনো আলোচনা সফল হয় না।তাঁর ভাষায়, ইরানের ওপর শর্ত চাপিয়ে সমাধান সম্ভব নয়।

শনিবার শুরু হওয়া এই বৈঠকে দুই পক্ষই নিজেদের শক্ত অবস্থানে দেখাতে চেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো নেতৃত্বে বড় ধাক্কা দিয়ে তারা কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে।

অন্যদিকে ইরান বলছে, তারা এই হামলায় টিকে গেছেএটাই তাদের বড় অর্জন। পাশাপাশি তারা এখন গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যা তাদের জন্য বড় কৌশলগত হাতিয়ার।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, “গত ৪০ দিনের অর্জন সুরক্ষায় আমরা এক মুহূর্তও থামব না।আর উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি সরাসরি বলেন, “হরমুজ প্রণালীর চাবি এখন আমাদের হাতে।

আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হয়ে ওঠে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ। যুদ্ধের আগে যেখানে মুক্ত নৌ চলাচল ছিল, সেখানে এখন ইরান শুধু নিয়ন্ত্রণই নয়, এই পথ ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনাও করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে আগের অবস্থায় ফেরার কথা বলছে, সেখানে ইরান আরও এগিয়ে গিয়ে প্রণালীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়। এমনকি যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাবও তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, একদিনের আলোচনায় দশকের জটিল সমস্যা সমাধানের আশা করা অবাস্তব ছিল। যুদ্ধ শুরুর আগেই পারমাণবিক ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি।

যদি কূটনীতি ব্যর্থ হয় এবং আবার সংঘাত শুরু হয়, তাহলে ইরান মনে করছে তারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ চালাতে পারবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ, ইরান প্রোগ্রামের প্রধান আলী ভায়েজ জানিয়েছেন, মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন ইরানের এখনও প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে এবং তারা অন্তত আরও কয়েক মাস লড়াই চালাতে সক্ষম।

ভায়েজ বলেন, ‘তারা আরও দুই মাস বা তার বেশি সময় লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে। আর অর্থনৈতিকভাবে, ইরানিরা কতটা কষ্ট সহ্য করতে ইচ্ছুক, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। আসল প্রশ্ন হলো: ট্রাম্প প্রশাসন কি এই উচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য দিতে প্রস্তুত?’

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস