হরমুজ খুলতেই তেলের দামে বড় পতন, কমেছে ১৩ শতাংশ

ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। শুক্রবার একদিনেই দাম কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় দরপতন।

Apr 17, 2026 - 14:55
হরমুজ খুলতেই তেলের দামে বড় পতন, কমেছে ১৩ শতাংশ
হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় একটি কার্গো জাহাজ। ছবি : রয়টার্সের সৌজন্যে

ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। শুক্রবার একদিনেই দাম কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় দরপতন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালিতে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেন। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, প্রণালিটি আর বন্ধ না রাখার বিষয়ে ইরান সম্মত হয়েছে।

এই ঘোষণার পরই বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২.৮৭ ডলার বা ১২.৯৫ শতাংশ কমে ৮৬.৫২ ডলারে নেমে আসে। একপর্যায়ে তা ৮৬.০৯ ডলার পর্যন্ত নেমেছিল।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১৩.৫০ ডলার বা ১৪.২৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮১.১৯ ডলারে দাঁড়ায়। লেনদেন চলাকালে এটি ৮০.৫৬ ডলারেও নেমেছিল। ১০ মার্চের পর উভয় সূচকেই এটি সর্বনিম্ন অবস্থান এবং এপ্রিলের পর একদিনে সবচেয়ে বড় পতন।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের এই ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনাভো বলেন, “এই সংকেত দেখাচ্ছে যে যুদ্ধবিরতির সময় অন্তত পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। এখন দেখার বিষয়, হরমুজ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কতটা বাড়ে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষ করতে তিন পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।

তবে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১০ হাজারের বেশি সেনা নিয়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ এখনো বহাল রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি খোলা ইতিবাচক সংকেত হলেও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা পুরোপুরি কাটতে সময় লাগবে। ইউরোপে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, কারণ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রধান বন্দরগুলোতে পৌঁছাতে এতটাই সময় লাগে।

এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আবারও পাল্টে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স