‘নীল সমুদ্রে’র গর্জন থামাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড, টি-টোয়েন্টির রেকর্ড শিরোপা ভারতের
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামেই ২০২৩ সালে নীল সমুদ্রের গর্জন থামিয়ে দিয়েছিল প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া। ভারতকে হারিয়ে ভরা গ্যালারির গর্জন থামিয়ে জিতেছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা। কামিন্সের দেখানো পথেই হাঁটতে চেয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে বলেছিলেন শিরোপা জিততে ভারতীয়দের হৃদয় ভাঙতেও দ্বিধায় পড়বেন না!
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামেই ২০২৩ সালে নীল সমুদ্রের গর্জন থামিয়ে দিয়েছিল প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া। ভারতকে হারিয়ে ভরা গ্যালারির গর্জন থামিয়ে জিতেছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা। কামিন্সের দেখানো পথেই হাঁটতে চেয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে বলেছিলেন শিরোপা জিততে ভারতীয়দের হৃদয় ভাঙতেও দ্বিধায় পড়বেন না!
কিন্তু ভারতীয়দের নয়, রোববার আহমেদাবাদের ফাইনালে হৃদয় ভাঙল কিউইদের। নীল জার্সিতে সয়লাব গ্যালারির লক্ষাধিক দর্শকের চিৎকারে স্যান্টনারের দল এমনই কোনঠাসা হয়ে পড়ল যে, ফাইনালে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারলেন না। একপেশে ফাইনালে ভারতের জয় ৯৬ রানে।
ভারতের দেওয়া ২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে এসে নিউজিল্যান্ড অলআউট ১৫৯ রানে। পাওয়ারপ্লেতে ভারত বিনা উইকেটে তুলেছিল ৯২। আর নিউজিল্যান্ড ৩ উইকেট হারিয়ে ৫২ রান। প্রথম ৬ ওভারে দিই দলের দুরকম শুরুই কার্যত ম্যাচে গড়ে দেয় ব্যবধান। রোববারের ফাইনাল জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের নতুন উচ্চতায় তুলেছে ভারতকে। প্রথম স্বাগতিক হিসেবে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি প্রথম দল হিসেবে এটি ভারতের টানা শিরোপা জয়ও। এখানেই শেষ নিয়। এটি ভারতের রেকর্ড তৃতীয় শিরোপাও।
বিশ্বকাপে যেখানে সর্বোচ্চ ২৩০ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড, সেখানে আহমেদাবাদের ফাইনালে ভারতের দেওয়া ২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিততে রেকর্ড গড়তে হতো কিউইদের। এমন বড় লক্ষ্য তাড়ায় যেমন উড়ন্ত সূচনার দরকার, সেটা তো হয়ইনি, উল্টো পাওয়ারপ্লেতেই ফিন অ্যালেন (৯), রাচিন রবীন্দ্র (১) ও গ্লেন ফিলিপসকে (৫) হারিয়ে ব্যকফুটে চলে যায় কিউইরা।
এরপরও ম্যাচের আশা জিইয়ে রাখতে কাউকে না কাউকে খেলতে হতো অতিমানবীয় কোনো ইনিংস। সেটা তো হয়ইনি, উল্টো দলের বিপদ বাড়িয়ে দ্রুতই ফিরে যান মার্ক চ্যাপমান (৩) ও উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া ওপেনার টিম সেইফার্টও। ২টি চার ও ৫টি ছয়ে ২৬ বলে ইনিংস-সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন তিনি। আর শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলা নিউজিল্যান্ড অলআউট ১৫৯ রানে। বোলার হিসেবে তিনি কী জিনিস, সেটি আরও একবার দেখিয়েছেন যশপ্রীত বুমরা—রানপ্রসবা উইকেটেও মাত্র ১৫ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। হয়েছেন ম্যাচসেরা।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে ভারত। এবারের প্রতিযোগিতায় এটাই কোনো দলের সর্বোচ্চ স্কোর। প্রথম তিন ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা ও ইশান কিষাণের ফিফটির ওপর ভর করেই এই রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিক ভারত।
৭.২ ওভারেই রানের তিন অঙ্ক ছোঁয় ভারত; যা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দ্রুততম দলীয় সেঞ্চুরি। ওপেনিংয়ে এসেই ব্যাটে আগুনের হলকা তোলেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। তাঁদের বেধড়ক পিটুনিতে পাওয়ারপ্লেতেই ভারত তুলে ফেলে ৯২ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাওয়ারপ্লেতে এত রান আগে তুলতে পারেনি কোনো দল।
দুই ওপেনারই নাভিশ্বাস তুলে ফেলেন কিউই বোলারদের! হয়তো মিচেল স্যান্টনারকেও টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথার্থতা নিয়ে ভাবিয়ে তোলে। বোলিংয়ে দুঃস্বপ্নের শুরুর পর কিউই বোলার-ফিল্ডাররা একচিলতে দম ফেলার সময় পান ভারত ইনিংসের অষ্টম ওভারে, ১৮ বলে এই বিশ্বকাপের দ্রুততম ফিফটি করা অভিষেকের বিদায়ে। রাচিন রবীন্দ্রর শিকার হওয়ার আগে ২১ বলে ৫২ রান করেন অভিষেক। ৬টি চার ও ৩টি ছয়ে সাজানো তাঁর ইনিংসটির স্ট্রাইকরেট ২৪৭.৬১। ২০০-এর বেশি স্ট্রাইকরেটে ২৫ বলে ৫৪ করেছেন তিনে নামা ইশান কিষাণও। আর সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ৮৯ রান খেলে আউট হয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। ৫টি চার ও ৮টি ছয়ে সাজানো তাঁর ইনিংসটিই ফাইনালে কোনো ব্যাটারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস।
প্রথম তিন ব্যাটারের জ্বলে ওঠায় ১৫তম ওভারেই ২০০ ছোঁয় ভারত। শক্ত এই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে শেষ দিকে শিবম দুবে ৮ বলে ৩টি চার এবং ২টি ছয়ে ৮ বলে ২৬* রান তুললে ৫ উইকেটে এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ২৫৫ রান তোলে ভারত।
ডালাস বার্তা প্রতিবেদক