এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: ভুক্তভোগীদের ৭২.৫ মিলিয়ন ডলার দেবে ব্যাংক অব আমেরিকা

জেফরি এপস্টেইনের যৌন পাচার কেলেঙ্কারিতে ভুক্তভোগীদের ৭২.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা। ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা একাধিক ‘সতর্ক সংকেত’ উপেক্ষা করে এপস্টেইনের অপরাধ কার্যক্রম চলতে সহায়তা করেছে।

Mar 30, 2026 - 21:37
এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: ভুক্তভোগীদের ৭২.৫ মিলিয়ন ডলার দেবে ব্যাংক অব আমেরিকা
প্রতীকি ছবি। সৌজন্য এআই

জেফরি এপস্টেইনের যৌন পাচার কেলেঙ্কারিতে ভুক্তভোগীদের ৭২. মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা। ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা একাধিকসতর্ক সংকেতউপেক্ষা করে এপস্টেইনের অপরাধ কার্যক্রম চলতে সহায়তা করেছে।

মামলাটি দায়ের করা হয়জেন ডোনামে পরিচিত এক নারী এবং একই ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত অন্যদের পক্ষ থেকে। অভিযোগে বলা হয়, ব্যাংকটি এপস্টেইনের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে লাভবান হয়েছে। এর মধ্যে ছিল বিলিয়নিয়ার লিওন ব্ল্যাকের কাছ থেকে এপস্টেইনের কাছে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ, যাট্যাক্স এস্টেট পরিকল্পনা পরামর্শহিসেবে দেখানো হয়েছিল।

সমঝোতাটি এমন এক দিনে হয়, যেদিন ব্ল্যাকের আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার কথা ছিল।

ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, ব্যাংকটিসাধারণ কোনো ব্যাংকের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে গিয়েএপস্টেইনের যৌন পাচার কার্যক্রম চালাতে প্রয়োজনীয় আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।

তাদের মতে, বহু বছর আগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অনেক ভুক্তভোগীর জন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতেই এই সমঝোতা সর্বোত্তম পথ ছিল।

অন্যদিকে, ব্যাংক অব আমেরকিা বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ব্যাংকের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, তারা কখনোই যৌন পাচারে সহায়তা করেনি এবং এই সমঝোতামামলাটি শেষ করে বাদীদের জন্য কিছুটা সমাপ্তি এনে দেবে।

মামলার কেন্দ্রে থাকা নারী জানান, ২০১১ সালে রাশিয়ায় এপস্টেইনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তাকেএকটি কাল্ট-সদৃশ (একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অন্ধ অনুসারী) জীবন যাপনে বাধ্য করা হয়েছিলবাধ্য করা হয়। তিনি দাবি করেন, ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তাকে আর্থিক, মানসিক মনস্তাত্ত্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং অন্তত ১০০ বার যৌন নির্যাতনের শিকার হন।

তার অভিযোগ, ব্যাংক অব আমেরিকার একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাঁকে ভুয়া চাকরির নামে অর্থ দেওয়া হতো এবং তাঁর ভাড়া পরিশোধ করা হতো, একই সঙ্গে তার অভিবাসন অবস্থানকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে ব্যাংকের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে জেপি মরগ্যান চেজ ২৯০ মিলিয়ন ডলার এবং ডয়েচে ব্যাংক ৭৫ মিলিয়ন ডলার দিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছিল।

এই ধারাবাহিক সমঝোতাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা, বিশেষ করে উচ্চপ্রোফাইল অপরাধীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে নজরদারির সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: ফক্স ফোর