যুক্তরাষ্ট্রে ধনী-গরিব বৈষম্য বাড়ছে, ট্রাম্পের নীতিতে তীব্র হচ্ছে বিভাজন
যুক্তরাষ্ট্রে ধনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিতে এই ব্যবধান আরও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
যুক্তরাষ্ট্রে ধনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিতে এই ব্যবধান আরও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, শেয়ারবাজারের উত্থান, বিলাসবহুল সম্পদের চাহিদা এবং কর ছাড়ের সুবিধায় ধনীরা আরও লাভবান হচ্ছেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি, গাড়ি এমনকি নিত্যপণ্যের খরচও ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম নয় মাসে শীর্ষ ১ শতাংশ মানুষের সম্পদ বৃদ্ধির হার নিচের ৯০ শতাংশের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। একই সময়ে প্রযুক্তিখাতের উত্থানে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্কের সম্পদ ঐতিহাসিকভাবে দ্রুত বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মহামারি-পরবর্তী বাজার অস্থিরতা, আবাসন খাতের সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–নির্ভর শেয়ারবাজারের উত্থান এবং উৎপাদন খাতে ধীরগতি—এসব মিলেই বৈষম্য বাড়াচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে কর ছাড় ও নীতিগত সুবিধার মাধ্যমে করপোরেট ও ধনীদের সহায়তা দিচ্ছে, অন্যদিকে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন কর্মসূচিতে কাটছাঁট করেছে। পাশাপাশি শুল্ক নীতির কারণে পণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদ রবার্ট রাইশ বলেন, ট্রাম্প শ্রমজীবী মানুষের কথা বললেও বাস্তবে দ্বিতীয় মেয়াদে করপোরেট মুনাফা ও শীর্ষ আয়ের মানুষের সম্পদই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করছে, কর ছাড়, নিম্ন মুদ্রাস্ফীতি এবং মজুরি বৃদ্ধির ফলে দীর্ঘমেয়াদে সবাই উপকৃত হবে। তবে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, ধীরগতির চাকরির বাজার ও বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় এই ইতিবাচক দিকগুলোকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ ১ শতাংশ মানুষের হাতে মোট সম্পদের প্রায় ৩২ শতাংশ কেন্দ্রীভূত, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলক কম থাকায় ব্যবধান আরও বিস্তৃত হয়েছে।
বাস্তবতায়, অনেক আমেরিকান এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। বিপরীতে ধনী শ্রেণি শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগ থেকে বড় লাভ পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, এই ক্রমবর্ধমান বৈষম্য শুধু অর্থনীতিতেই নয়, আসন্ন নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: এনবিসি ৫