‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্প নীতির বিরুদ্ধে রাজপথে লাখো মানুষ
ইরান ইস্যু, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক নীতির প্রতিবাদে ‘নো কিংস’ স্লোগানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিস্তৃত বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
ইরান ইস্যু, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক নীতির প্রতিবাদে ‘নো কিংস’ স্লোগানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিস্তৃত বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
৫০টি অঙ্গরাজ্যের তিন হাজারের বেশি শহরে এই কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি আয়োজকদের। তাদের মতে, এটি একদিনে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভগুলোর একটি হতে পারে। ইতোমধ্যে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ ফিলাডেলফিয়া, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বড় শহরগুলোয় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেছেন। উত্তর টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সপ্তাহান্তে বড় সমাবেশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আন্দোলনের পেছনে একাধিক ইস্যু কাজ করছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। তাদের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতি—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ—দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব সরাসরি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং তার অর্থনৈতিক প্রভাব—বিশেষ করে জ্বালানি খাতে—এই বিক্ষোভকে নতুন গতি দিয়েছে।
‘নো কিংস’ স্লোগানটি সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পবিরোধী রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, কোনো নির্বাচিত নেতা আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোকে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নেবেন।
এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মধ্যে মুভঅন উল্লেখযোগ্য। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক কেটি বেথেল বলেন, ‘মানুষ একটি ভালো ভবিষ্যতের আশায় শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমেছে। তারা আর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে চায় না।’
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন দেশে ও দেশের বাইরে সহিংসতা বাড়াচ্ছে এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার করছে। আয়োজকদের মতে, ‘নিরন্তর বিশৃঙ্খলায় ক্লান্ত’ সাধারণ মানুষ এখন সংগঠিতভাবে প্রতিবাদে নামছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই তার প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ—বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও ফেডারেল সংস্থাগুলোতে পরিবর্তন—নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটেই ধীরে ধীরে ‘নো কিংস’ ধরনের প্রতিবাদ গড়ে ওঠে, যা এখন একটি বিস্তৃত জাতীয় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন, যাদের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্ডিভিজিবল’ও। সংগঠনটি বলছে, তারা গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ কেবল তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিফলন। ইরান ইস্যু, অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রশাসনিক নীতির সমন্বয়ে তৈরি এই পরিস্থিতি আগামী নির্বাচনী রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তারা বলছেন, যদি অংশগ্রহণ প্রত্যাশামতো বড় হয়, তবে ‘নো কিংস’ আন্দোলন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, ফক্স ফোর