অভিবাসী কারাগারের জন্য ট্রাম্পের ৩৮ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা নিয়ে তদন্তে ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জন্য গুদামঘরকে কারাগারে রূপান্তরের পরিকল্পনা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ৩৮ বিলিয়ন ডলারের এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জন্য গুদামঘরকে কারাগারে রূপান্তরের পরিকল্পনা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ৩৮ বিলিয়ন ডলারের এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
৫০-এর বেশি সিনেটর ও প্রতিনিধি এক চিঠিতে ঠিকাদার ও রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর কাছে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বর্তমানে ছড়িয়ে থাকা ২০০টির বেশি কেন্দ্রকে কমিয়ে ৩৪টি সরকারি মালিকানাধীন কারাগারে রূপান্তর করতে চায়, যার কিছু পরিচালনা করবে বেসরকারি ঠিকাদাররা।
চিঠিতে আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেন, গুদামঘর কেনার প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এতে করদাতাদের অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি রয়েছে। তাঁরা বলছেন, ‘এই গুদামগুলো পণ্য রাখার জন্য তৈরি, মানুষের জন্য নয়।’
এই তদন্ত এমন সময় শুরু হলো, যখন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের (ডিএইচএস) প্রায় ১৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ব্যবহারে বিতর্ক বাড়ছে। এই ব্যয় বরাদ্দ ছিল রিপাবলিকানদের সমর্থিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ আইনের আওতায়। ব্যয় নিয়ে প্রশ্নের জেরে সম্প্রতি পদ হারান সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়াম। তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া ওকলাহোমার সাবেক সিনেটর মার্কওয়েন মুলিন কারাগারের অবস্থান পুনর্বিবেচনার কথা জানিয়েছেন।
ডেমোক্র্যাটদের চিঠি পাঠানো হয়েছে বেসরকারি কারাগার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জিইও গ্রুপ ইনকর্পোরেটে ও কোরসিভিক ইনকর্পোরেটেডসহ কয়েকটি ঠিকাদার ও রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের কাছে। তবে কোরসিভিক জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
প্রশাসনের দাবি, অভিবাসী কারাগার ব্যবস্থাকে একীভূত করলে ব্যয় কমবে এবং বহিষ্কার কার্যক্রমে সক্ষমতা বাড়বে। তবে ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও মেরিল্যান্ডের প্রতিনিধি জেমি রাস্কিন অভিযোগ করেছেন, আইসিই স্বাভাবিক দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত চুক্তি করতে মার্কিন নৌবাহিনীর সরবরাহ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে।
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যালঘু হওয়ায় তাদের সমন জারির ক্ষমতা নেই। তবুও তারা ৯ এপ্রিলের মধ্যে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন—কীভাবে চুক্তি হয়েছে, কী ধরনের সেবা দেওয়া হবে এবং এসব গুদামঘরের মূল ব্যবহার কী ছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক অনুদান সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, অন্তত নয়টি স্থানে গুদামঘর কিনতে ইতোমধ্যে ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছে ডিএইচএস। তবে এসব স্থাপনায় কারাগার নির্মাণ পরিকল্পনা স্থানীয় পর্যায়ে বাড়তি বিরোধিতার মুখে পড়ছে। মিশিগান ও মেরিল্যান্ডসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আইনি চ্যালেঞ্জও শুরু হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ