যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ নতুন রেকর্ড ছুঁয়ে ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা ইরান যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বড় আর্থিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ নতুন রেকর্ড ছুঁয়ে ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা ইরান যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বড় আর্থিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই ঋণ বৃদ্ধির পেছনে একদিকে যুদ্ধ ব্যয়, অন্যদিকে কর কমানো, প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বাড়তি খরচ—সব মিলিয়ে প্রশাসনের নীতিগত অগ্রাধিকারের সংঘাত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঋণ কমানোর কথা বললেও বাস্তবে ঋণের গতি উল্টো বেড়েই চলেছে।
সরকারি নিরীক্ষা সংস্থা (জিএও) সতর্ক করেছে, ঋণ বাড়ার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। বাড়ছে গৃহঋণ ও গাড়ির ঋণের সুদ, কমছে বিনিয়োগ সক্ষমতা, ফলে চাপ পড়ছে মজুরিতেও। পাশাপাশি পণ্য ও সেবার দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন আর্থিক সিদ্ধান্তে ঠেলে দিতে পারে। অলাভজনক সংস্থা ‘পিটার জি. পিটারসন ফাউন্ডেশন’-এর সিইও মাইকেল পিটারসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের এই ভয়াবহ বৃদ্ধির হার স্বীকার করতে হবে। আমরা পরবর্তী প্রজন্মের ওপর এক বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছি।’
মাত্র পাঁচ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ছিল ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার, তারও দুই মাস আগে ছিল ৩৭ ট্রিলিয়ন—যা ঋণ বৃদ্ধির দ্রুত গতি তুলে ধরে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচনের আগেই ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধেই এখন পর্যন্ত ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। তবে যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস বলছে, বাজেট ঘাটতি কিছুটা কমেছে। ২০২৫ অর্থবছরে মোট ব্যয় ছিল ৭.০১ ট্রিলিয়ন ডলার এবং আয় ৫.২৩ ট্রিলিয়ন ডলার, ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ১.৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার—যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম।
প্রশাসনের দাবি, কর আদায় বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানো এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কারণে ঘাটতি কমছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক ঋণের ঊর্ধ্বগতি এখনো বড় উদ্বেগ হিসেবেই রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: এপি