এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি অবৈধ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের রায়

উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসা ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের ফি অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল আদালত।

Jun 8, 2026 - 20:43
এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি অবৈধ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের রায়
১ লাখ ডলার ফি’কে কর বলছেন আদালত, যা আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে দেয়নি। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসা ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা লাখ ডলারের ফি অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল আদালত।

সোমবার বোস্টনের ফেডারেল বিচারক লিও সোরোকিন রায় দেন। তাঁর মতে, এই অর্থ কোনো জরিমানা নয়; বরং এটি একটি কর, যা আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে দেয়নি।

গত সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি ভিসার জন্য লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি ঘোষণা করে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কোম্পানি বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে এই ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

২০টি অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলদের করা এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সিদ্ধান্ত দেয়। মামলাকারীরা যুক্তি দেন, এত বড় অঙ্কের ফি আরোপের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী মনে হলে নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে এবং সেই ক্ষমতার আওতায় অর্থ আদায় বৈধ। তবে বিচারক সোরোকিন বলেন, নাম যাই হোক না কেন, বাস্তবে এটি একটি কর এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তা আরোপ করা যায় না।

রায়ে তিনি সম্প্রতি ট্রাম্পের আরোপ করা বিস্তৃত শুল্ক বাতিলসংক্রান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তেরও উল্লেখ করেন। তার মতে, সেই একই আইনি যুক্তি এখানে প্রযোজ্য।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেছেন, প্রশাসন মনে করে আপিলে এই রায় বাতিল হবে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোত্তম স্বার্থে নয় বলে বিবেচিত বিদেশিদের প্রবেশ সীমিত করার সুস্পষ্ট আইনগত ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে।

এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ৬৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। এছাড়া উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে। সাধারণত ভিসার জন্য নিয়োগকর্তাদের হাজার থেকে হাজার ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিতে সেই ব্যয় এক লাফে লাখ ডলারে পৌঁছে যায়।

ফি আরোপের সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এইচ-১বি কর্মসূচি ব্যবহার করে অনেক প্রতিষ্ঠান কম বেতনের বিদেশি কর্মী এনে মার্কিন কর্মীদের প্রতিস্থাপন করছে।

তবে বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে ফি প্রযোজ্য ছিল না। শ্রেণির আবেদনকারীরাই সাধারণত নতুন এইচ-১বি ভিসাপ্রাপ্তদের বড় অংশ।

নতুন ফি কার্যকরের পর খুব কম প্রতিষ্ঠানই তা পরিশোধ করেছে। গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত মাত্র ৮৫টি আবেদন বাবদ লাখ ডলারের ফি জমা পড়েছিল বলে আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পেরঅবৈধ ব্যয়বহুল লাখ ডলারের করবাতিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি উপকৃত হবে। তাঁর ভাষায়, “এই কর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন মেধাবীদের আকৃষ্ট ধরে রাখার সক্ষমতার ওপর আঘাত ছিল, যা অর্থনীতি শ্রমবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স