দোহা ফোরামে গাজা থেকে ইসরায়েলকে সরিয়ে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের তাগিদ
দোহা ফোরামে গাজা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চার দেশের কূটনৈতিক চাপ আরও জোরালো হয়েছে। যুদ্ধবিরতির জামিনদার কাতার, মিসর ও তুরস্ক—তার সঙ্গে সৌদি আরব—ইসরায়েলকে গাজা থেকে সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এসব পদক্ষেপ ছাড়া এই ভঙ্গুর শান্তি টিকবে না।
দোহা ফোরামে গাজা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চার দেশের কূটনৈতিক চাপ আরও জোরালো হয়েছে। যুদ্ধবিরতির জামিনদার কাতার, মিসর ও তুরস্ক—তার সঙ্গে সৌদি আরব—ইসরায়েলকে গাজা থেকে সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এসব পদক্ষেপ ছাড়া এই ভঙ্গুর শান্তি টিকবে না।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-থানি বলেন, প্রথম ধাপে কেবল ‘একটি বিরতি’ হয়েছে; স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে শুধুমাত্র ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি সরে যাওয়ার পরই। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা এখন এক সংকটময় মুহূর্তে… পূর্ণ যুদ্ধবিরতি তখনই সম্ভব, যখন ইসরায়েলি সেনাদের গাজা থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হবে এবং সেখানে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।’
পরবর্তী ধাপে কীভাবে অগ্রসর হওয়া যায়, তা নিয়ে মধ্যস্থতাকারীরা কাজ করছেন বলেও জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রী।
সৌদি আরবও গাজা ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রতিনিধি মানাল রাদওয়ান বলেন, ‘আমরা যা নিয়ে ইতিমধ্যে একমত হয়েছি এবং যা নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব হিসেবে জারি হয়েছে এবং সব পক্ষ স্বাগত জানিয়েছে, তা পুনরায় সংজ্ঞায়িত করা এবং পুনরায় আলোচনার জন্য আমরা উন্মুক্ত হতে পারি না।’
তিনি আরও বলেন, বারবার নতুন ব্যাখ্যা দিতে গেলে মূল লক্ষ্য থেকে মনোযোগ সরে যাবে।
মিসর দ্বিতীয় ধাপের জন্য তিন দফা দাবি তুলেছে—ইসরায়েলের অবস্থান পুনর্বিন্যাস, অন্তর্বর্তী শাসনকাঠামো গঠন এবং দ্রুত আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন। মিসরের মতে, ‘ইসরায়েলের একতরফা লঙ্ঘন’ প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতিকে দুর্বল করছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, স্থিতিশীলতা বাহিনী কারা নেতৃত্ব দেবে তা এখনো ঠিক হয়নি। তাঁর মতে, প্রথম কাজ হওয়া উচিত ‘ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েলিদের থেকে আলাদা করা’, নিরস্ত্রীকরণ নয়। তুরস্ক বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী হলেও ইসরায়েল তাদের অংশগ্রহণে আপত্তি জানাচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা থামেনি। দুই বছরে নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে, যাদের বেশির ভাগই নারী–শিশু। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাও ৬০০–র বেশি বলে জানাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী পক্ষ।
তথ্যসূত্র: এএফপি, মিডল ইস্ট আই