ইরানে হামলার আশঙ্কায় তেলের বাজারে অস্থিরতা
ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৫ ডলারে পৌঁছায়, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৫ ডলারে পৌঁছায়, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক চুক্তিতে না এলে ‘আরও ভয়াবহ’ হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর থেকেই বাজারে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়ে। এর প্রভাবেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম উৎপাদক ইরান দৈনিক প্রায় ৩২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি হামলার শিকার হলে দেশটির তেল উৎপাদন ও রপ্তানি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হরমুজ প্রণালি ঘিরে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এখানে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা পিভিএমের বিশ্লেষক জন ইভান্স বলেন, ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলে বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়।
এই তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ যায় দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারিতেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা গত চার বছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চ। ডলারের মান কমা, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত হ্রাস এবং কাজাখস্তানে উৎপাদন বিঘ্ন—সব মিলিয়ে তেলের বাজারে চাপ আরও বাড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, বিবিসি