ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা

ইরানকে লক্ষ্য করে শনিবার সকালে যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। ইরানের ফারস সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানীর ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জামহুরি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পরে রাজধানীর উত্তর ও পূর্বাঞ্চলেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

Feb 28, 2026 - 02:28
ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা
হামলার পর তেহরানের হাসান আবাদ স্কয়ারের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

ইরানকে লক্ষ্য করে শনিবার সকালে যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। ইরানের ফারস সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানীর ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জামহুরি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পরে রাজধানীর উত্তর ও পূর্বাঞ্চলেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ইসরায়েলজুড়ে স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৮টা থেকে সাইরেন বাজছে, পাল্টা হামলার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন দেশটির নাগরিকরা। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে চলতি আলোচনায় ইরান ছাড় দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু শুক্রবারই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের ওপর ‘খুশি নন’।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইরানে হামলা কেবল সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে এবং এটি ‘ছোট নয়’। ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিমাণ যুদ্ধযান মোতায়ন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান, ডেস্ট্রয়ার ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার।

তেহরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ের আশপাশও হামলার আওতায় এসেছে। তবে খামেনিকে নিরাপদে সরানো হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যোসেফ কাটজ বলেছেন, হামলাটি ‘প্রি-অ্যাম্পটিভ’ এবং রাষ্ট্রের জন্য হুমকি নির্মূল করতেই করা হয়েছে।

ইরানও পাল্টা ‘সর্বনাশা’ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু তোমরা এমন পথে যাত্রা করেছো, যার পরিণতি আর তোমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, ‘কিছুক্ষণ আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে বড় অভিযান শুরু করেছে। আমাদের লক্ষ্য ইরানি শাসকদের হুমকি নির্মূল করা এবং মার্কিনদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।’

এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যেই দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা ও সামরিক মোতায়েন চলছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা