ইরানে হামলার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ শতাংশ মানুষ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দেশটির ৭৫ শতাংশ নাগরিক। পক্ষে আছেন মাত্র ২৫ শতাংশ। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে ১,২৮২ জন প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান অংশ নেন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দেশটির ৭৫ শতাংশ নাগরিক। পক্ষে আছেন মাত্র ২৫ শতাংশ। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে ১,২৮২ জন প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান অংশ নেন।
জরিপে দেখা গেছে, ইরান-ইসরায়েল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার পক্ষে মত দিয়েছেন ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা, বিপক্ষে ৪৩ শতাংশ এবং ২৯ শতাংশ কোনো মত দেননি। তবে গত শনিবার ভোরে ইরানের শীর্ষ নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অভিযানের বিষয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ আমেরিকান অবগত।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক শক্তি প্রয়োগে অতিমাত্রায় আগ্রহী—এমন মনে করেন ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা। এ মতের সঙ্গে একমত ৮৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট, ২৩ শতাংশ রিপাবলিকান এবং ৬০ শতাংশ নির্দলীয় ভোটার। যদিও রিপাবলিকানদের ৫৫ শতাংশ হামলার পক্ষে, তাঁদের ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন—মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা হতাহত হলে তাঁরা সমর্থন প্রত্যাহার করবেন।
ইতোমধ্যে অভিযানে চার মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার খবর এসেছে। পাশাপাশি কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ভুলে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলসহ অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এক শতাংশ কমে ৩৯ শতাংশে নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট শুরুর তিন দিন আগে হামলা শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে। জরিপে ৪৫ শতাংশ বলেছেন, যুদ্ধের জেরে তেলের দাম বাড়লে তাঁরা এই অভিযানের বিরোধিতা করবেন। ইতোমধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘ হলে দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, জেনেভায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করে। ওয়াশিংটনের দাবি—ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান বলছে, তাদের কর্মসূচি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রিক।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স