যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নজিরবিহীন পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। শনিবার সকাল থেকে দুবাই থেকে দোহা, মানামা থেকে এরবিল—একাধিক দেশে মিসাইল ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে বা যারা ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।
ইরানকে লক্ষ্য করে শনিবার সকালে যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। ইরানের ফারস সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানীর ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জামহুরি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পরে রাজধানীর উত্তর ও পূর্বাঞ্চলেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিতর্কে বড় অগ্রগতি এসেছে—ইরান ভবিষ্যতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করবে না বলে সম্মত হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান জানিয়েছে, এটি এখন পর্যন্ত আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান । শনিবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘কোনো চাপের মুখেই আমরা মাথা নত করব না।’ তাঁর এই বক্তব্য আসে এমন সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে বাধ্য করতে সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন।
ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের নির্দেশে বর্তমানে ক্যারিবীয় সাগরে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে যেতে বলা হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে ইরানি জলসীমা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ইউএস মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করে।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। এ কারণে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছাড়াই ইরানে সামরিক হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে দেশটি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওমানের রাজধানী মাসকাটে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের পরোক্ষ বৈঠককে ‘ভালো শুরু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে আলোচনা শেষ হতেই ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, পাশাপাশি ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার জরুরি সতর্কতা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
অবশেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রতীক্ষিত পরমাণু আলোচনা নতুন করে শুরু হওয়ার পথে। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি ও নিষেধাজ্ঞার জেরে বহু দফা আলোচনা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। এবার কাতার, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যস্থতায় একটি প্রস্তাবিত কাঠামো সামনে এসেছে, যা শুক্রবার ওমানের বৈঠকে আলোচনায় উঠবে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । আর এ আলোচনার মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আরব সাগরে তাদের বিমানবাহী রণতরির দিকে ধেয়ে আসায় একটি ইরানি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তা দ্বিপক্ষীয় সংঘাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে—এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও ইরান ইস্যুতে প্রকাশ্যে নীরব ইসরায়েল। চলতি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানানো ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে বড় কোনো মন্তব্য আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতাই ইসরায়েলের কৌশল—তেহরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দিনব্যাপী সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন–এর নেতৃত্বে একটি বড় মার্কিন নৌবহর ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হত্যাকাণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ হয়েছে—এমন আশ্বাস পাওয়ার দাবি করে সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো ‘অত্যন্ত নাজুক’ বলেই মনে করছেন কূটনীতিক ও বিশ্লেষকেরা। বিক্ষোভ দমন, পাল্টা হুমকি, শেষ মুহূর্তের উপসাগরীয় কূটনীতি, মার্কিন সামরিক তৎপরতা ও তেলের দামে বড় পতন—সব মিলিয়ে ইরান ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনো বহুমাত্রিক।
ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানে চলমান দমন–পীড়নের মুখে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি ‘সাহায্য আসছে’ বলে আশ্বাস দিয়েছেন এবং ‘আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নিন’ আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের জন্য সামরিক ও গোপন নানা বিকল্প বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের দুই কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানান, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি সাইবার অপারেশন ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযানের পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্ত ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হবে।
ইরানে টানা ১৬ দিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে একটি কার্টুন পোস্ট করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপসহ ‘অত্যন্ত কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ইরানে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মানবাধিকারকর্মীরা। নিহতদের মধ্যে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ১০ হাজার ৬০০–এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
পারস্য উপসাগরে ইরানের নৌযানে সামুদ্রিক মাইন তোলা হয়েছে— এমন গোপন তথ্য পাওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এই কৌশল নিচ্ছে, যাতে প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করা যায়।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করতে চেয়েছিল ইসরায়েল। তবে যথাযথ সুযোগের অভাবে সেটা করা যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এ কথা বলেছেন। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল থার্টিনের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
ইসরায়েল এবং তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মূল লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক মিডলইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইন তেহরানের সিনিয়র ফেলো আব্বাস আসলানি। কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘আল-উদেইদ’-এ ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার করেছে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
গত ২১ জুন ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন, তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উঠে এসেছে— এই সিদ্ধান্ত কি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা আইন (War Powers Resolution) লঙ্ঘন করেছে?