বিক্ষোভ দমনে অন্তত ৫৩৮ নিহত, সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি তেহরানের
ইরানে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মানবাধিকারকর্মীরা। নিহতদের মধ্যে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ১০ হাজার ৬০০–এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
ইরানে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মানবাধিকারকর্মীরা। নিহতদের মধ্যে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ১০ হাজার ৬০০–এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ বন্ধ থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইরান সরকার এখনো মোট হতাহতের কোনো সরকারি হিসাব দেয়নি। তথ্য অবরোধের সুযোগে নিরাপত্তা বাহিনী আরও কঠোর অভিযান চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন প্রবাসী ইরানিরা। রোববার সকালে তেহরান ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে আবারও বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ইরানে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ ও ইসরায়েল ‘বৈধ লক্ষ্য’ হবে। তাঁর বক্তব্যের সময় সংসদে ‘ডেথ টু আমেরিকা’ স্লোগান ওঠে। তিনি ইসরায়েলকে ‘দখলদার ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ইরান ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে।’ হোয়াইট হাউস সূত্রের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণ থেকে শুরু করে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ—বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনায় আছে। তবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
ইসরায়েল পরিস্থিতি ‘ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছে বলে দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ইরান ইস্যুতে কথা বলেছেন। ভ্যাটিকানে পোপ লিও চতুর্দশ ইরানের পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংলাপ ও শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তেহরানের পুনাক এলাকায় ছোট ছোট জমায়েত, মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং আতশবাজির শব্দ শোনা যায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, কঠোর নিরাপত্তার কারণে রাজধানীতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে, স্বল্পস্থায়ী ও চলমান আকার নিয়েছে। নজরদারি ড্রোন ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে। মাশহাদ ছাড়াও কেরমান ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভের খবর মিলেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কিছু শহরে ‘শান্ত’ পরিস্থিতির দৃশ্য দেখালেও তেহরান ও মাশহাদ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সরকারপন্থী বক্তব্যও কঠোর হয়েছে। শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি কিছু বিক্ষোভকারীকে আইএসের সঙ্গে তুলনা করেন। রাষ্ট্রীয় টিভিতে নিহত নিরাপত্তা সদস্যদের জানাজা দেখানো হয় এবং বিভিন্ন প্রদেশে সহিংসতায় হতাহতের খবর দেওয়া হয়।
সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও কড়া সুরে বলেন, মানুষের উদ্বেগ শুনতে হবে, তবে ‘দাঙ্গাকারীদের’ সমাজ ধ্বংস করতে দেওয়া যাবে না।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানি রিয়ালের ভয়াবহ অবমূল্যায়ন, ডলারের বিপরীতে যা ১৪ লাখ ছাড়িয়েছে—এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় চাপে থাকা অর্থনীতি ও পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরাসরি ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।
তথ্যসূত্র: এপি