মার্কিন চাপের মুখেও নত হবে না ইরান: পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান । শনিবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘কোনো চাপের মুখেই আমরা মাথা নত করব না।’ তাঁর এই বক্তব্য আসে এমন সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে বাধ্য করতে সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান । শনিবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘কোনো চাপের মুখেই আমরা মাথা নত করব না।’ তাঁর এই বক্তব্য আসে এমন সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে বাধ্য করতে সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দুইটি বিমানবাহী রণতরী ও শতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে। মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরুর পর এটিই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ।
শুক্রবার বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে। ট্রাম্পের নির্দেশে জাহাজটিকে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর বহরে থাকা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করে।
এ মাসে ওমানে পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু করে তেহরান ও ওয়াশিংটন; পরে সুইজারল্যান্ডে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হয়। উভয় পক্ষ আলোচনা ‘ইতিবাচক’ বললেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধান এখনো ‘হাতের নাগালে’ এবং কয়েক দিনের মধ্যে খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হতে পারে।
তবে গত বছরের আলোচনাও ভেস্তে যায়, যখন ইসরায়েল হামলা চালায় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা বর্ষণ করে। সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারিতে ট্রাম্প বলেছেন, ‘অর্থবহ চুক্তি না হলে খারাপ কিছু ঘটবে।’ জবাবে ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে জানায়, তারা যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আগ্রাসনের জবাব ‘দৃঢ় ও সমানুপাতিক’ হবে।
সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কায় সুইডেন, পোল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। তেহরানের সাধারণ মানুষও উদ্বিগ্ন—কারও মতে যুদ্ধ অনিবার্য, আবার কেউ আশা করছেন শেষ পর্যন্ত কূটনীতিই জিতবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা