সরকারি শাটডাউনে চতুর্থ প্রান্তিকে ধাক্কা, বেড়েছে মূল্যস্ফীতি
দীর্ঘ ৪৩ দিনের সরকারি শাটডাউনের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। তবে ভোক্তা ব্যয় ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ স্থিতিশীল থাকায় অর্থনীতির ভিত এখনো টেকসই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
দীর্ঘ ৪৩ দিনের সরকারি শাটডাউনের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। তবে ভোক্তা ব্যয় ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ স্থিতিশীল থাকায় অর্থনীতির ভিত এখনো টেকসই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মার্কিণ বাণিজ্য বিভাগের অধীন ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের প্রাথমিক হিসাবে, চতুর্থ প্রান্তিকে জিডিপি বার্ষিক হারে বেড়েছে ১.৪ শতাংশ। আগের প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৪ শতাংশ। পুরো বছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২.২ শতাংশে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
শাটডাউনের কারণে ফেডারেল সরকারের ব্যয় ১৬.৬ শতাংশ কমেছে—১৯৭২ সালের পর সবচেয়ে বড় পতন। এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি থেকে ১.১৫ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রথম প্রান্তিকে এ ক্ষতির বড় অংশ পুষিয়ে যেতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, শাটডাউনের কারণে জিডিপিতে অন্তত দুই শতাংশ পয়েন্ট ক্ষতি হয়েছে এবং সুদের হার কমানোর আহ্বান জানান। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী থাকায় ফেডারেল রিজার্ভ শিগগিরই সুদ কমাবে না।
চতুর্থ প্রান্তিকে ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে ২.৪ শতাংশ হারে, যদিও আগের প্রান্তিকে ছিল ৩.৫ শতাংশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–কেন্দ্রিক গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় ৭.৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে আবাসন খাতে বিনিয়োগ টানা চতুর্থ প্রান্তিকে কমেছে।
অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় সূচক (কোর পিসিই), যা ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার প্রধান সূচক, ডিসেম্বরে মাসভিত্তিক ০.৪ শতাংশ এবং বার্ষিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। জানুয়ারিতে তা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরোপিত আমদানি শুল্কের বড় অংশ বাতিল করেছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারদর বেড়েছে, তবে ডলার কিছুটা দুর্বল হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি ব্যয় কমলেও ভোক্তা চাহিদা এখনো স্থিতিশীল। তবে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি মূল্যচাপ এবং কম সঞ্চয় হার আগামী মাসগুলোতে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স