বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিনিদের নাগরিকত্ব বাতিলে জোর দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিল (ডিন্যাচারালাইজেশন) প্রক্রিয়া জোরদার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি মাসে ১০০ থেকে ২০০টি সম্ভাব্য মামলা চিহ্নিত করে বিচার বিভাগে পাঠাতে চায় সরকার, যা আগে ছিল বিরল ঘটনা।

Feb 13, 2026 - 23:02
বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিনিদের নাগরিকত্ব বাতিলে জোর দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে আইনজীবীদের ডিন্যাচারালাইজেশন মামলায় অগ্রাধিকার দিতে বলেছে। ছবি: নিউিইয়র্ক টাইমস

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিল (ডিন্যাচারালাইজেশন) প্রক্রিয়া জোরদার করছে ট্রাম্প প্রশাসন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি মাসে ১০০ থেকে ২০০টি সম্ভাব্য মামলা চিহ্নিত করে বিচার বিভাগে পাঠাতে চায় সরকার, যা আগে ছিল বিরল ঘটনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীনস্থ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) সারা দেশের ৮০টির বেশি ফিল্ড অফিসে বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে বা কর্মকর্তাদের পুনর্বিন্যাস করছে। লক্ষ্যআগে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কারও ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি বা তথ্যগোপনের প্রমাণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা।

বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে আইনজীবীদের ডিন্যাচারালাইজেশন মামলায় অগ্রাধিকার দিতে বলেছে। সম্ভাব্য মামলার উদাহরণ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি, যুদ্ধাপরাধ বা নির্যাতন, মেডিকেয়ার/মেডিকেইড জালিয়াতি এবং সরকারের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশিযথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণমনে হলে অন্যান্য মামলাও নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চার বছরে মোট ১০২টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল; জয় আসে ৮৬টিতে। বাইডেন আমলে জয় হয় ৫৪টি মামলায়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত ১৬টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৭টিতে সরকার জিতেছে।

ডিএইচএসের এক মুখপাত্র বলেছেন, নাগরিকত্ব জালিয়াতি বা মিথ্যা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে শূন্য-সহনশীলতার নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলছেন, নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি মানদণ্ড অত্যন্ত কঠোর; প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ব্যয়বহুল, অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর লেগে যায়।

সমালোচকদের আশঙ্কা, এই উদ্যোগে ভয়ভীতি তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। তদন্তে জড়ালেই আইনজীবী নিয়োগ, নথি জোগাড়সব মিলিয়ে আর্থিক মানসিক চাপ তৈরি হয়, যদিও শেষ পর্যন্ত দণ্ড না- হতে পারে। নিউইয়র্কভিত্তিক অভিবাসন সহায়তা সংস্থার আইনজীবীরা জানান, নতুন নীতির পর কিছু আবেদন কর-দেনা বানৈতিক চরিত্রসংক্রান্ত অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে নাকচ হয়েছে।

মার্কিন আইনে প্রতিবছর প্রায় লাখ মানুষ ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পান। এর জন্য কিছু শর্ত মানতে হয়। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, তাকে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) হতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা মার্কিন ইতিহাস সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—‘ভালো নৈতিক চরিত্রপ্রমাণ করা।

অন্যদিকে, নাগরিকত্ব বাতিল বা ডিন্যাচারালাইজেশন সাধারণত খুব বিরল ঘটনা। এটি মূলত তখনই করা হয়, যখন প্রমাণ হয় যে কেউ নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বা জালিয়াতি করেছে। ইতিহাসে এমন উদাহরণ রয়েছেদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভুয়া পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা নাৎসি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসন নতুন ক্ষমতা চাচ্ছে; বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি চলছে।

সব মিলিয়ে, নাগরিকত্ব কারা পাবে প্রশ্নে প্রশাসনের কঠোর বার্তা স্পষ্ট। তবে আইনি জটিলতা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বাস্তবে কতদূর এগোনো যাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ