নৃশংস এক সত্যকেই সামনে নিয়ে এলো ব্রিটিশ তদন্ত
টেক্সাসের প্রসপার শহরে বাবার বাড়িতে গুলিতে নিহত ২৩ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক লুসি ক্যাথেরিন হ্যারিসনের মৃত্যুকে ‘অবৈধ হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে রায় দিয়েছে যুক্তরাজ্যের এক করোনার আদালত।
টেক্সাসের প্রসপার শহরে বাবার বাড়িতে গুলিতে নিহত ২৩ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক লুসি ক্যাথেরিন হ্যারিসনের মৃত্যুকে ‘অবৈধ হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে রায় দিয়েছে যুক্তরাজ্যের এক করোনার আদালত।
যুক্তরাজ্যের চেশায়ার করোনারস কোর্টে শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ করোনার জ্যাকুলিন ডেভোনিশ বুধবার এ সিদ্ধান্ত জানান। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন লুসি। ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর। সেদিনই তিনি বাবার বাড়িতে বুকে গুলিবিদ্ধ হন।
শুনানিতে বলা হয়, লুসির বাবা, ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ক্রিস হ্যারিসন সম্প্রতি আত্মরক্ষার জন্য একটি গ্লক পিস্তল কিনেছিলেন। অস্ত্রটি দেখানোর সময় তা থেকে গুলি ছুটে যায়। ঘটনার দিন লুসি ও তাঁর বাবার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক ঘিরে ‘বড় ধরনের’ রাজনৈতিক তর্ক হয়েছিল বলেও আদালতে উঠে আসে।
প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, লুসি হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা এসে তাঁর বুকে গুলির চিহ্ন দেখতে পান। ঘটনাস্থলে সিপিআর দেওয়ার পর তাঁকে ম্যাককিনির বেইলর মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কলিন কাউন্টির মেডিকেল পরীক্ষকের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ ‘বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে হত্যা’ (হোমিসাইড) উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে লুসির বাবা দাবি করেছেন, গুলি ছোড়া ছিল দুর্ঘটনাবশত। অন্যদিকে ব্রিটিশ আদালতের ‘অবৈধ হত্যাকাণ্ড’ রায় ওই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শুনানির নথিতে বলা হয়েছে, অস্ত্রটি তাঁর বুকের উচ্চতায় তাক করা অবস্থায় ছিল যখন গুলি ছুটে যায়।
ঘটনার তদন্তে প্রসপার পুলিশ বিভাগ ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করে। তারা জানায়, তদন্ত শেষে বিষয়টি কলিন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
লুসির মা জেন কোটস যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমকে বলেন, প্রসপার পুলিশ বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত মার্কিন তদন্তে কঠোরতা ও গভীর অনুসন্ধানের ঘাটতি ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘লুসির তদন্তটা আরও ভালোভাবে হওয়া উচিত ছিল।’
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ঘটায় ফৌজদারি বিচারের সিদ্ধান্ত টেক্সাস কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করবে। তবে দেওয়ানি মামলা দায়েরের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: ফক্স ফোর